শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০০ ডলার করার দাবি: জাতীয় পার্টির মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
মে দিবস উপলক্ষে কাকরাইল এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টি কর্তৃক আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি-র (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দেশের খেটে খাওয়া মজুর ও শ্রমিক শ্রেণীর বর্তমান জীবনযাত্রার মান নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় দেশে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি অন্তত ৩০০ ডলারের সমপরিমাণ ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোরালোভাবে ব্যক্ত করেন যে, একমাত্র এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে একজন শ্রমিক তার পরিবার-পরিজন নিয়ে ন্যূনতম একটি সম্মানজনক জীবন ধারণ করতে পারেন।
শ্রমবাজারের বর্তমান সংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও সরকারি সহায়তা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে জাপা মহাসচিব দেশের বর্তমান বেকারত্ব পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান খাতের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, প্রতি বছর বাংলাদেশ-এর শ্রমবাজারে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ নতুন শ্রমিক কাজ করার যোগ্য হয়ে প্রবেশ করছে। কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতি বছর যে বিশাল সংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে, তাদের মোট সংখ্যা দিয়ে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি ছোটখাটো স্বাধীন সার্বভৌম দেশ গঠিত হয়ে যেতে পারে। এই সংকট নিরসনে তিনি বলেন, কোনো কলকারখানা হঠাৎ করে বন্ধ হলে কিংবা সাময়িক অচলাবস্থার পর পুনরায় চালু করার মধ্যবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বেকার শ্রমিকদেরকে নিয়মিত সরকারি বেকার ভাতা প্রদান করা সরকারের সামাজিক দায়িত্ব।
পূর্ববর্তী সরকারের সময়কালীন বেকারত্ব ও শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী তার বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে দাবি করেন যে, বিগত ইউনূস সরকারের আমলজুড়ে ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্বল নীতির কারণে দেশের প্রায় ২৭ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়ে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানেও এই সংকট থেকে দেশ মুক্ত হতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে কেবল চলতি বছরেই আরও প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের কর্মসংস্থান হারিয়ে মারাত্মক চরম মানবিক বিপর্যয় ও সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।
শিল্প খাতে সরকারি ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার গুরুত্ব
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং শিল্প খাতকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি সরকারের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্দা, তৈরি পোশাক রফতানিতে বাধা এবং বাংলাদেশ-এর অভ্যন্তরে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনমুখী কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে, সেগুলোকে রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সরকারি ভর্তুকি (সাবসিডি) প্রদান করতে হবে। ভর্তুকি না দিয়ে এগুলোকে এভাবে বন্ধ হতে দিলে দেশের সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে।
তিনি পরিশেষে ব্যক্ত করেন যে, দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে শ্রমিকদের সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত অপরিহার্য। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা না হলে কোনো অর্থনৈতিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাই সরকারকে অবশ্যই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শ্রমিক_অধিকার #অর্থনীতি