মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ৬ দফা দাবি জি এম কাদেরের
মে দিবস উপলক্ষে দেশ ও বিদেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-র চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের সাধারণ দাবিই নয়, বরং যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। মে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শ্রমজীবী মানুষের সামগ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় এবং তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ দফা বিশেষ দাবি উত্থাপন করেন।
শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দাবি
জি এম কাদেরের পেশ করা দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা। এর মাধ্যমে চাকরি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত পদে পুনর্বহাল এবং সার্বিক পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা এবং বাধ্যতামূলক দুর্ঘটনা বিমা চালু করার দাবি জানান। একইসঙ্গে নারী শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা এবং পুরুষদের সমান সমমজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেন তিনি।
প্রথাগত খাতের বাইরে থাকা দেশের বিশাল অংশকে মূলধারায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনগোষ্ঠীকে অবিলম্বে শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।” পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের লক্ষ্যে শ্রমিক সংগঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও পরিচালনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতির প্রাণশক্তি শ্রমিক সমাজ ও চলমান সংকট
জাতীয় পার্টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শ্রমিক সমাজ বাঁচলে দেশের শিল্প কারখানা বাঁচবে, আর শিল্প বাঁচলেই বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তাই শ্রমজীবী মানুষের মূল অধিকার রক্ষায় এই দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি। জি এম কাদের বলেন, “শ্রমিক শ্রেণীর মেধা, ঘাম, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমেই একটি দেশের অর্থনীতির চাকা সার্বক্ষণিক সচল থাকে।” প্রকৃতপক্ষে শ্রমিক সমাজই যেকোনো স্বাধীন দেশের সার্বিক অর্থনীতির আসল প্রাণশক্তি।
বর্তমানে দেশের শ্রমিক সমাজ চরম বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের দিন যাপন করছে উল্লেখ করে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দ্রব্যমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসস্থান সংকট এবং দিন দিন বাড়তে থাকা চিকিৎসা খরচের চরম চাপে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে এখনও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি এবং সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শিল্প সংকট ও বৈষম্য দূরীকরণের আহ্বান
বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া নানা শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা হুট করে চাকরি হারিয়ে পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর ও করুণ জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং নারী শ্রমিকদের প্রতি অব্যাহত বৈষম্য দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে তিনি গভীরভাবে মন্তব্য করেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
#মে_দিবস #শ্রমিক_অধিকার #জাতীয়_পার্টি #বাংলাদেশ