মে দিবসের সমাবেশে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি

মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক সমাবেশে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের সার্বিক জীবনের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য দলীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। মে দিবসের আন্তর্জাতিক তাৎপর্য ও চেতনাকে ধারণ করে রাজধানী ঢাকা-র নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখ সড়কে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এই বিশাল শ্রমিক সমাবেশের উদ্যোগ নেয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার আদায়ের Struggles ও দীর্ঘ ইতিহাসে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন।

ঐতিহাসিক অবদান, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন

সমাবেশে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় নিজেকে শ্রমজীবী মানুষের একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিলেন।” তিনি আরও বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রত্যাশা ও দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লেবার বোর্ড এবং লেবার ফাউন্ডেশনের মতো যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এসব উদ্যোগের ফলে দেশের শ্রমিক আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত ও সুসংগঠিত হয়েছিল।

শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও নির্বাসিত জীবন সত্ত্বেও দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান গণআন্দোলন এবং রাজপথের লড়াইয়ে দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ও সুযোগ লাভ করলে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষা ও কল্যাণে ঘোষিত প্রতিটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পর্যায়ক্রমিক দাবি পূরণ ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা

বর্তমান দেশের জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন। নজরুল ইসলাম খান স্পষ্টভাবে জানান, “বর্তমান কঠিন সময়ে শ্রমিকদের শতভাগ দাবি হয়তো একযোগে বা তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই আমাদের পর্যায়ক্রমে ধৈর্য ও কৌশলের মাধ্যমে এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।” তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে জনগণের প্রত্যক্ষ সরকার গঠিত হলে শ্রমজীবী সমাজের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় সর্বাধিক প্রাধান্য প্রদান করা হবে।

তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালীকরণ ও ভবিষ্যৎ বার্তা

নিজের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পথচলা স্মরণ করে নজরুল ইসলাম খান আবেগভরে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অর্থাৎ ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং শ্রমিক দলের সূচনালগ্ন থেকেই এর অগ্রযাত্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শ্রমিক ভাইদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী সংগঠনই যেকোনো অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা করে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের প্রত্যেক কর্মী যদি আগামী এক বছরের মধ্যে ন্যূনতম দুজন করে নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারেন, তবে এই রাজনৈতিক সংগঠন বহুগুণ শক্তিশালী হবে।” তৃণমূল শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ালে যেকোনো দেশি কিংবা বিদেশি ষড়যন্ত্র চিরতরে ব্যর্থ হবে এবং সাধারণ মানুষের সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর হবে।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #মেদিবস #শ্রমিক_অধিকার