শ্রমিকদের ত্যাগে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে: জামায়াত নেতা

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম শহরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অত্যন্ত অবিস্মরণীয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাতের ঐতিহাসিক আন্দোলনে শ্রমিকরাই সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন এবং নিজেদের রক্ত ও আত্মত্যাগ দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।

অর্থনীতি ও আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের নিরলস অবদান ও ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ছাড়া কোনো সভ্যতার বিকাশ ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। অথচ আমাদের দেশে শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য মূল্যায়ন প্রদান করা হয় না। দেশের অর্থনৈতিক মূল ভিত্তি গড়ে তোলার পেছনে শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ও ঘাম প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। একই সাথে স্বৈরাচার ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিটি ঐতিহাসিক রাজপথের সংগ্রামে শ্রমিকরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের একটি বিরাট অংশই ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি জুলাই সনদের মূল রূপরেখা অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। অন্যথায় দেশের সর্বস্তরের শ্রমিকসমাজ আবারও রাজপথে নতুন কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

শ্রমিক নিরাপত্তা, রেশনিং ও নতুন বাংলাদেশ গঠন

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিগত সরকার দেশের অসংখ্য সরকারি কলকারখানা অহেতুক বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে রাতারাতি বেকার ও নিঃস্ব করেছে। এর পাশাপাশি দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও তাদের বাদ দিয়ে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

অন্যান্য রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতারা দেশের প্রতিটি কলকারখানায় ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম, বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো অবিলম্বে পুনঃচালু করা অত্যন্ত জরুরী। একই সাথে শ্রমিকের সততার পাশাপাশি মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের দৃঢ় অঙ্গীকার

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক নেতা এবং অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিবর্গ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা জানান, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। উক্ত সমাবেশে বিভিন্ন শিল্প খাতের নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শ্রমিক_অধিকার #সংবাদ