নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক মে দিবসে বিএনপির মহাসমাবেশ: তারেক রহমানের ভাষণ
আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা-র নয়াপল্টন এলাকার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। সকালের আকস্মিক ও ভারী বর্ষণের ফলে শহরের রাস্তাগুলোতে সাময়িক জলবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দুপুরের মধ্যেই পানি নিষ্কাশিত হয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এই স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার মধ্যে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মে দিবস ব্যাপকভাবে পালিত হয়। বিএনপি-র অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকদের অভূতপূর্ব জনস্রোত প্রত্যক্ষ করা যায়।
প্রধান অতিথির ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও ব্যাপক প্রস্তুতি
এবারের আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপি-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। প্রায় দেড় যুগের দীর্ঘ প্রবাসী জীবন শেষ করে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসার পর এটিই ছিল শ্রমিক সমাবেশের মঞ্চে তার প্রথম সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভাষণ প্রদান। এর আগে গত বছরে তিনি দূরবর্তী অবস্থান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী এবং শ্রমিকদের মাঝে এই কর্মসূচিকে ঘিরে চরম উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।
সমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাপক ও বিস্তৃত আয়োজন করা হয়। নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত সুবিশাল মঞ্চে লাল কার্পেট বিছানো হয়। উত্তরমুখী এই সুবিশাল মঞ্চের উভয় পাশে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতিকৃতি অত্যন্ত সুন্দরভাবে স্থাপন করা হয়। এছাড়া আশপাশের ফকিরাপুল, কাকরাইল এবং পল্টন এলাকাসহ সমগ্র বিস্তৃত অঞ্চলে শ্রবণযোগ্য ১৫০টিরও বেশি শক্তিশালী মাইক স্থাপন করা হয়।
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আড়ম্বরপূর্ণ এই মহাসমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানী এবং এর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল যেমন—গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ থেকে হাজার হাজার পোশাক ও কারখানা শ্রমিক অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দুপুরের পর থেকেই লাল টুপি, রঙ্গিন টি-শার্ট, বিশাল ব্যানার ও ঢাক-ঢোল নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। তাদের স্লোগান ও করতালিতে সমগ্র এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য
উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এবং বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নয়াপল্টন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় কঠোর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সকাল থেকেই পুরো এলাকায় বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে নিয়োজিত ছিলেন। বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান যে, দুর্যোগপূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া কাটিয়ে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মঞ্চ এবং প্রচারযন্ত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি সমাবেশের তাৎপর্য বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে এবং স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শ্রমিক জনসমাগম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নয়াপল্টন #মে_দিবস