শ্রমিক দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিশাল সমাবেশ
আন্তর্জাতিক মে দিবস ও মহান শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শুক্রবার মে দিবসের সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও শ্রমজীবী মানুষ মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে জমায়েত হতে শুরু করেন। বিএনপি-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে নির্মিত বিশাল মঞ্চে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক সমাবেশে বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে দূরদূরান্তের নেতাকর্মীদের ঢল
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে মুষলধারে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যার ফলে সমাবেশস্থলসহ নয়াপল্টন এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তি ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখা দিলেও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় কোনো ঘাটতি পড়েনি। প্রতিকূল আবহাওয়া, বৃষ্টি এবং রাজপথের পানি জমে থাকার কষ্ট উপেক্ষা করেই ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে জনস্রোত সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছাতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সড়ক থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পানির মধ্যেও নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে উপস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করে।
শ্রমিক অধিকার, জাতীয় অর্থনৈতিক সংকট ও স্থায়ী সমাধানের দাবি
এর আগে মে দিবসের কর্মসূচি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য নজরুল ইসলাম খান শ্রমিকদের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে দেশের মেহনতি শ্রমিক সমাজকে তাদের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।” বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের দল নির্বাচনের ইশতেহারে শ্রমিকদের জন্য দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি দেশবাসীকে নিশ্চিত করেন।
মজুরি কাঠামো, আউটসোর্সিং নিয়োগ এবং নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি স্কেল নির্ধারণ বা নতুন করে ঘোষণা না করা শ্রমজীবী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে। সরকারি বিভিন্ন পদ বিলুপ্ত করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের শিক্ষিত তরুণদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি পাট এবং চামড়ার মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রধান খাতগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল সমাবেশ থেকে মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতা, শোভন কর্মপরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরের শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মূল্যের রেশনিং ব্যবস্থা অবিলম্বে চালুর দাবি উত্থাপন করা হবে। এছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল বৃদ্ধির ফলে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়। বিএনপি নেতারা জাতীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার জোর দাবি জানান।
#শ্রমিকদিবস #রাজনীতি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি