সংসদে নিরাপত্তা ও হামলার তদন্তের দাবি তুলেছেন আবদুল হান্নান মাসউদ
নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে প্রদত্ত এই বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি ও তার সমর্থকেরা একাধিকবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বারবার অভিযোগ দায়ের এবং সুস্পষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ধারাবাহিক আক্রমণের বিবরণ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা
সংসদে বক্তব্য রাখার সময় হান্নান মাসউদ নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “নির্বাচনের সময় আমি অন্তত তিনবার সরাসরি সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হয়েছি।” তিনি উল্লেখ করেন, তার জয়ের জন্য একটি স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া আয়োজন করার অপরাধে সেখানকার সম্মানিত ইমামের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ইমাম সাহেব টানা দেড় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, একজন নিরপরাধ ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বর নির্যাতন চালানো হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন অপরাধীকেও আইনের আওতায় আনতে পারেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
নিজের নির্বাচনী এলাকা উপকূলীয় দ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার স্থানীয় পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওইসব অঞ্চলে ভূমিদস্যু এবং জলদস্যুদের অপতৎপরতা অত্যন্ত বেশি। এমনকি একবার ফেরিতে করে জাতীয় রাজধানী ঢাকা আসার পথে একদল সশস্ত্র ডাকাত তাকে অপহরণ ও আক্রমণের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সে যাত্রা তিনি কোনোমতে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন। কিন্তু এর আগেও অন্তত দুবার তাকে সরাসরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ভোটের দিনের হামলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দাবি
সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যার হুমকি এবং ক্রমাগত ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি বর্তমানে নিজের এলাকায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। ভোটের দিন তার নিজস্ব গাড়িবহরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন এখনো তার গাড়িতে বিদ্যমান। মামলা ও জিডি করার পরও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুরো বিষয়ের একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যে, পরবর্তীতে তার ওপর কোনো মারাত্মক হামলা সংঘটিত হলে তার দায়ভার কে নেবে? একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি সংসদ থেকে কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংসদ #সংবাদ