ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী চূড়ান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। জোটের মধ্যে আসন বণ্টন ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১১টি আসন। বাকি আসনগুলো জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এই প্রার্থী তালিকায় যেমন রাজপথের অভিজ্ঞ নারী নেত্রীরা স্থান পেয়েছেন, তেমনি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও, যা রাজপথের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ত্যাগের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের একটি বড় দৃষ্টান্ত।
জোটের আসন বণ্টন ও জামায়াতের সিদ্ধান্ত
সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের অনুপাত অনুযায়ী ১১ দলীয় ঐক্যের ভাগ্যে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন এসেছে। জোটের বড় শরিক হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রাপ্ত ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে নিজেদের দলীয় নারী নেত্রীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। তবে জোটের বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ, সংহতি বজায় রাখা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করার উদ্দেশ্যে দলটি তাদের নিজস্ব তিনটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, রাজপথের রাজনৈতিক লড়াই এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রার্থী নির্বাচনে এই বিশেষ ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।
জুলাই শহীদের মায়ের মনোনয়ন ও ত্যাগের স্বীকৃতি
এই প্রার্থী নির্বাচনের অন্যতম একটি বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা। এই সিদ্ধান্তটি পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জোটের নেতারা মনে করেন, আন্দোলনের শহীদদের পরিবারকে উপযুক্ত সম্মান প্রদান করা এবং জাতীয় সংসদে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব। শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে রোকেয়া বেগমকে অন্তর্ভুক্ত করা মূলত জুলাই আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক ত্যাগ ও লড়াইকে চিরস্মরণীয় করে রাখার এক অনন্য রাজনৈতিক প্রয়াস।
প্রার্থীদের তালিকা ও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব
জোটের পক্ষ থেকে যাদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী-র নারী শাখার শীর্ষস্থানীয় নেত্রীরা রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নী, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ এবং সামসুন নাহার। তারা সবাই দীর্ঘ দিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন।
অন্যদিকে শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও যোগ্য প্রতিনিধিদের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু, জাগপা-র চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর নারী মজলিসের মাহবুবা হাকিম স্থান পেয়েছেন। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা প্রদান করা হবে এবং জোটের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংরক্ষিত_আসন