ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি বান্ধব সামাজিক উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ: সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ
জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রশংসনীয় সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারের জনকল্যাণমুখী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অভূতপূর্ব সাফল্য আজ সমগ্র দেশজুড়ে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। একসময় যে সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা সমালোচকরা এই দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি নিয়ে অনর্থক কটু মন্তব্য করতেন এবং বলতেন “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড”, তারা আজ সরকারের এই বিশাল সফলতা ও সার্বিক অগ্রগতি দেখে ভেতরে ভেতরে চরমভাবে লজ্জিত হচ্ছেন। সকল ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে এই যুগান্তকারী সামাজিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক রূপান্তর এনে দিয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যাপক বিস্তার ও ধর্মীয় যাজকদের ভাতা প্রদান
সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার নির্ধারিত ভাষণে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, দেশের প্রান্তিক এলাকার সহায় সম্বলহীন ও অসহায় নারীরা এখন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুরক্ষার আওতায় এসে অত্যন্ত স্বাবলম্বী ও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই কার্ডের সুনির্দিষ্ট সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণের পথ সুগম হচ্ছে। কেবল অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই নয়, বর্তমান সরকার সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদের সম্মানিত ইমাম, মন্দিরের শ্রদ্ধেয় পুরোহিত এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের যাজকদের নিয়মিত সামাজিক ভাতা ও সম্মানীর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই অনন্য উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কৃষি খাতের সর্বাত্মক উন্নয়ন, ঋণ মওকুফ ও বিপুল অর্থ ভর্তুকি
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি খাত এবং সাধারণ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা গভীর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের অসামান্য পদক্ষেপগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন সুনামগঞ্জের এই প্রবীণ সংসদ সদস্য। তিনি জানান যে, দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার্বিক স্বস্তি প্রদানের লক্ষ্যে সরকার সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ফলে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করতে হয়েছে। সরকার কৃষকদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে সরাসরি প্রদান করেছে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে এবং কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সুপরিকল্পিত নীতির আওতায় স্মার্ট কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানসম্মত কৃষি উপকরণ সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম এরই মধ্যে সফলভাবে শুরু হয়েছে। এই উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে প্রান্তিক কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ ছাড়াই সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সার্বিক জাতীয় সহযোগিতার তাগিদ
জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে কলিম উদ্দিন আহমেদ দৃঢ়তার সাথে বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার। তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অনেক সময় না বুঝে বা জেনে-শুনে সরকারের সার্বিক উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বিমত প্রকাশ করা হয়। রাজনীতির মাধ্যমে অনর্থক মাঠ গরম করার অপচেষ্টা চালানো দেশের অগ্রযাত্রার জন্য মোটেও শুভ নয়। তিনি অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থে সরকারের সকল গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
#রাজনীতি #কৃষি_উন্নয়ন #ফ্যামিলি_কার্ড #বাংলাদেশ