সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা-র পুরানা পল্টনে জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এই ঐক্যজোটে বড় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি শরীক অন্যান্য দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ পরিবার থেকেও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সাধারণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং বিশেষ নিয়মে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঐক্য জোটের আসন বণ্টন ও জুলাই শহীদের সম্মান
সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ জানান যে, ১১ দলীয় ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য হলো সঠিক মূল্যায়ন, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সংহতি প্রকাশ। জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-কে একটি আসন দেওয়া হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উল্লেখ করেন যে, জাগপা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসনের দাবি করা হয়নি, বরং ঐক্যের পক্ষ থেকে সম্মান জানিয়ে তাদের একটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মহান আত্মত্যাগ এবং শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন বীর শহীদের শ্রদ্ধেয় মাতাকে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।
তৃণমূলের সুচিন্তিত মতামত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন ব্যবস্থা
জামায়াতে ইসলামী-র প্রতিনিধি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের দল থেকে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কৌশল অন্যান্য চিরাচরিত রাজনৈতিক দলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের দলে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রার্থিতার আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এর পরিবর্তে, সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট নিয়মে তৃণমূলের মতামত এবং কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের নিবিড় পর্যালোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী বেছে নেওয়া হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রতিফলিত করে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ স্থানে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।
জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলীয় ভূমিকা ও নারী অধিকার
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আশা ব্যক্ত করে বলেন যে, তারা সবাই একসাথে রাজপথে পথচলা শুরু করেছেন এবং আগামী দিনে একসাথে নতুন সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারবদ্ধ। জোটে মনোনীত নারী প্রার্থীরা জাতীয় সংসদে সমগ্র দেশের নারীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং নারী সমাজের কল্যাণ ও মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে সংসদে জনস্বার্থ নিশ্চিত করা।
মনোনীত প্রার্থীর চূড়ান্ত বিবরণ ও সাংগঠনিক পরিচিতি
প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন দলের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবসম্পদ সম্পাদক সাবিকুন্নাহার মুন্নী, প্রচার ও সাহিত্য সম্পাদক নাজমুন নাহার নীলু, সিলেট মহানগরীর সাবেক প্রতিনিধি মাহফুজা হান্নান, বগুড়া অঞ্চলের পরিচালিকা সাজেদা সামাদ, চট্টগ্রাম জেলা উত্তরের প্রতিনিধি শামছুন্নাহার বেগম এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মারদিয়া মমতাজ। বিশেষ মনোনয়ন লাভ করেছেন জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম। শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাহবুবা হাকিম চূড়ান্ত মনোনয়ন লাভ করেছেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ