মার্চ মাসে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দশম শ্রেণি সম্পন্ন করতে ১৮-২০ মাস সময় নিচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ১০-১২ মাসে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই বিদ্যমান পরীক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষামন্ত্রী ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জানুয়ারি মাসে এসএসসি এবং জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষার ঘোষণা দেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই পরিকল্পনার পেছনে পরীক্ষার শিডিউলে একটি পরিবর্তন আনার চিন্তা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, কারণ এর মাধ্যমে সময় বাঁচবে এবং শিক্ষার্থীরা সময়মতো উচ্চশিক্ষা শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে, পূর্বের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন থেকে সরে এসে মার্চ-এপ্রিলের তাপপ্রবাহের মধ্যেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সময়ের অপচয়

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই দশম শ্রেণি থেকে এসএসসি/সমমানের সনদ পেতে ১০-১২ মাস সময় লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান পরীক্ষাপদ্ধতিতে জানুয়ারি মাসে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু থেকে উচ্চমাধ্যমিক ক্লাসে ভর্তি পর্যন্ত ২০ মাস সময় লাগে, যা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সময়ে এসএসসি সনদ পাওয়ার রেকর্ড। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়াতে দশম শ্রেণি শুরু করা একজন ছাত্র স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে ৬-৭ বছর সময় নিলেও, বাংলাদেশে একই ডিগ্রি অর্জনে ১০-১৪ বছর সময় লাগছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং তরুণ জনশক্তির জীবনের অপচয় ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

প্রস্তাবিত সমাধান ও চ্যালেঞ্জ

শিক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তনের চিন্তা ভালো হলেও এর বাস্তবায়ন বেশ জটিল এবং সব অংশীজনের সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। দশম শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সমন্বিত ও কমপ্রিহেনসিভ শিক্ষা পরিকল্পনা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকরাজনীতিসহ সেশনজটের জন্য দায়ী অন্যান্য বিষয়গুলো বন্ধ করা প্রয়োজন।

একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে। এরপর জানুয়ারিতে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়ে পরের বছরের মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা এবং আগস্ট মাসে ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করা যেতে পারে। তাড়াহুড়া না করে ২০২৭ সাল থেকে এই পরিবর্তন শুরু করা যেতে পারে। এই কাজটি বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রজন্ম ও জাতি দীর্ঘকাল মনে রাখবে।