সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে। বৈঠক শেষে উপস্থিত একজন সচিব গণমাধ্যমকে এই অনুমোদনের খবর নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানানো হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে গঠিত ১০ সদস্যের এই কমিটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো তৈরির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। কমিটির সুপারিশে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
কমিটি তাদের সুপারিশে বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছিল। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে বলে প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছিল। এই দ্বৈত ধাপের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর সম্ভাব্য চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে কমিটি মনে করেছিল। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ নামক একটি উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। এই কমিশনকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতার বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কমিশন তাদের কাজ সম্পন্ন করে গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই সুপারিশগুলো সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।