জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের তির্যক ভাষা প্রয়োগে অপদস্থ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করে জুলাইয়ের রক্তের প্রতিদান দেবে বললেও, সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সংশয় কাটছে না। মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করে আস্থাহীনতা না বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে চরমভাবে ব্যর্থ এবং নিজেদের ওয়াদা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে দ্বিচারিতা করছে। আস্থাহীনতার সংকট নিয়ে সরকার ছয় মাস পার করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে পরমতসহিষ্ণু ও গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিরোধী দলের লংমার্চে তেলের খরচ নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের মন্তব্যকে হাস্যকর উল্লেখ করেন। তাঁর যুক্তি, যেসব গাড়ি আগে রাস্তায় চলত, সেগুলোই এখন লংমার্চের গাড়িবহরে চলবে। গাড়ি বন্ধ করে তেলের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি সংকটের সমাধানও করতে হবে।

চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বিস্তারিত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সমাবেশ হবে রাজধানীর শাপলা চত্বরে। এরপর প্রথম পথসভা নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে, পরেরটি কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে, তারপর ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, সব কটি পথসভায় ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন, তবে সবাই কথা বলবেন না। কোন পথসভায় কারা কথা বলবেন, তা আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকবে। গাড়িবহরে থাকা ১১ দলের নেতা-কর্মীরা গাড়ি থেকে নামতে পারবেন না। লংমার্চের গাড়িবহরে প্রায় এক হাজার গাড়ি থাকবে এবং পথে পথে আরও গাড়ি যুক্ত হবে।

যানজটের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, রাস্তার দুই লেনের একটিতে লংমার্চের গাড়িবহর যাবে, অন্যটি সাধারণ যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। বড় পরিসরের লংমার্চে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্য তাঁরা ওই রুটের মানুষদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। লংমার্চের পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা এখনই তাঁরা করছেন না। পুলিশের আইজি ছাড়াও স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য

মতবিনিময় সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে কোনো বাধা এলে কঠিন প্রতিরোধ করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাধা এলে লড়াই বাধবে এবং তাতে ১১–দলীয় ঐক্য জিতবে। লংমার্চে তেল খরচের হিসাবের বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সেখানে তেলসংকট না হলে বিরোধী দলের লংমার্চেও তেলের সংকট হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, দেশের মানুষ লংমার্চের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা অতিষ্ঠ। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান আশা প্রকাশ করেন, লংমার্চে দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চ ঘোষণার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম।