জনদাবি আদায়ে রাজপথে বিরোধী দলগুলো: সরকার পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি
বিজয়নগরে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী-র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সাধারণ জনগণকে তাদের ন্যায়সংগত অধিকার ও নানা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি এবং এই ধরনের গণআন্দোলন কখনোই ক্ষমতাসীনদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে না। তাই তিনি দ্রুত জনগণের অসন্তোষ ও ভাষা বুঝে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য না করার আহ্বান জানান।
সমাবেশের মূল দাবি ও গণমিছিলের কর্মসূচি
এই প্রতিবাদী গণসমাবেশ ও পরবর্তী বিক্ষোভ মিছিল মূলত গণভোটের রায় কার্যকর করা, চলমান জ্বালানি সংকট অনতিবিলম্বে নিরসন এবং আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জনদুর্ভোগ লাঘব করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে নেতারা তাদের তীব্র অসন্তোষ জানান।
সরকারের দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার মসনদে বসে এখন সংবিধানের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।” তারা জানতে চান যে, কোন আইনি বা সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। সুবিধা অনুযায়ী সংবিধানের কিছু অংশ মানা এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ প্রত্যাখ্যান করা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
জ্বালানি সংকট, দলীয় দমন-পীড়ন ও বিরোধী নেতাদের প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, গণবিস্ফোরণ ও পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে অতীতেও কোনো চরম স্বৈরাচার টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ভ ভুয়া দাবি সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে না পেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অতএব, রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে চিরদিন শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
জাগপা-র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত। বিদ্যুতের তীব্র সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন সরকারের সমালোচনা করলেই ভয়াবহ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ লাইনের প্রকৃত রহস্য নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিনিয়ত জীবননাশের হুমকি সত্ত্বেও জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ থেকে পিছপা হবেন না। ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব বাধা অতিক্রম করে তারা রাজপথে থাকবেন। উক্ত বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, লেবার পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত মজলিস-সহ জোটভুক্ত ১১টি দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণআন্দোলন