জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোটের দাবিতে ১৫ দিনের কর্মসূচি
জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিতকরণ এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ১৫ দিনব্যাপী নতুন ও সর্বাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল।রাজধানী ঢাকা-র মগবাজার এলাকায় অবস্থিত আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দল আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলন থেকে এই সমন্বিত আন্দোলন কর্মসূচির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্ত করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জোটের শীর্ষ নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচির সময়সূচি ও আন্দোলন বিস্তারের রূপরেখা
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী নানা ধরনের রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহতভাবে পালন করা হবে।আন্দোলনের প্রথম ধাপে ১৮ এপ্রিল ১১টি রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা-য় এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এর পরবর্তী ধাপে আগামী ২৫ এপ্রিল রাজধানী ঢাকা ব্যতিকে দেশের বাকি সব বিভাগীয় প্রধান শহরগুলোতে পৃথকভাবে গণমিছিলের আয়োজন করা হবে, যা স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।
এরপর আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে আগামী ২ মে সারা দেশের প্রতিটি জেলা শহরে একযোগে বিশাল গণমিছিল পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।মূল রাজপথের মিছিল ছাড়াও আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত টানা ১৫ দিন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম এবং তথ্যভিত্তিক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।এসব আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে।
বিভাগীয় সমাবেশ ও পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে দলগুলোর পক্ষে বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়, ২ মে ঘোষিত জেলা পর্যায়ের কর্মসূচি সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।এই ধাপে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় সদর দপ্তর ও বড় শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বৃহদাকার রাজনৈতিক জনসভা এবং পথসভা আয়োজন করা হবে।একই সাথে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে একযোগে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করা হবে।
“এই সব রাজপথের বৃহৎ কর্মসূচিতে সমমনা ১১টি দলের শীর্ষপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা সশরীরে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন এবং আন্দোলনের মূল লক্ষ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন।” সকল সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় পর্যায়ের এই রাউন্ডের কর্মসূচির সফল সমাপ্তির পর পুনর্নির্ধারিত তারিখে রাজধানীতে ১১টি দলের সমন্বয়ে এক ঐতিহাসিক ও সর্ববৃহৎ কেন্দ্রীয় মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে, যার চূড়ান্ত তারিখ ও সময় যথাসময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর এই নতুন উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের চোখ এখন এই কর্মসূচির রাজপথের প্রভাবের দিকে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #আন্দোলন