ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আকস্মিক পরিদর্শনের পর নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরসহ অনিয়মের অভিযোগে দুই সহকারী কমিশনারসহ মোট ১৮ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এই তথ্য জানিয়েছেন।

পরিদর্শন ও ঘটনার সারসংক্ষেপ

আজ সোমবার সাবেকী সময় সকালে প্রতিমন্ত্রী শাহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ওই তিনটি ভূমি অফিসে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি কার্যালয় ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মের মধ্যে প্রধানত ছিলেন অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকা এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করা।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা থানা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা। এ ছাড়া কানুনগো, সার্ভেয়ারসহ অন্যান্য ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীও নোটিশ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ

পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে অফিসে অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব জনগণকে সেবা প্রদান করা এবং তাদের অনুপস্থিতি বা ভুয়া হাজিরা জনগণের সেবায় বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ও পরবর্তী কার্যপ্রণালী

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, সুস্পষ্ট অভিযোগ ও পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন,

‘সোমবার সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খানপুরে অবস্থিত সদর উপজেলা, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আরও জানিয়েছেন যে কারণ দর্শানোর জবাব, সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিজ্ঞত তথ্য প্রমাণাদি যাচাই করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নোটিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দেবে এবং প্রশাসনিক তদন্তের পর প্রযোজ্য শাস্তি বা নির্দেশনা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।