সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের রূপরেখা ও পরিকল্পনা
দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এক বিরাট ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার মোট পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এই বৃহৎ নিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে চলমান রয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারপ্রধান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা এবং সরকারি কাজের পরিধি আরও প্রসারিত করার এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
খেলার মাঠ তৈরি, তরুণদের বিকাশ ও ক্রীড়া ভাতার নতুন উদ্যোগ
শুধু সরকারি চাকরি প্রদানই নয়, তরুণ ও যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য দেশের সর্বস্তরে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ-এর শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নে কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
এর পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াবিদদের যথাযথ সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তাসুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন যোগ্য ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এই সম্মানজনক ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
আইসিটি খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক লেনদেন ও শিক্ষা ঋণের সম্প্রসারণ
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দেশের সকল হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনায় জোর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেন সহজতর করতে এবং তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপাল-এর কার্যক্রম বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশেষ কমিটি কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ঋণের অভূতপূর্ব সুবিধা
বিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান জামানতবিহীন শিক্ষা ঋণের সীমা অভাবনীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় এই ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা থাকলেও তা বর্তমানে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপান গমনেচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটির (COE) ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও অর্থবহ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিরাট সুযোগ।
সরকারের এই বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপসমূহ দেশের বেকারত্ব হ্রাস, শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তরুণদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
#নিয়োগ #কর্মসংস্থান #শিক্ষাঋণ #বাংলাদেশ