আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার সাবেক মেয়রের

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে তিনি আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। সাম্প্রতিক নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, তাকে “আওয়ামী লীগের দোসর” হিসেবে আখ্যায়িত করা একেবারেই অসংগত ও ভিত্তিহীন। তার বাসভবনে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষিতে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন।

বাসায় এনসিপি নেতার আগমন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি

সাক্ষাৎকারে মনজুর আলম স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি না এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি মামলা বা অভিযোগ নেই। তাই আমাকে রাজনৈতিকভাবে অন্য কোনো দলের সহযোগী বলা যুক্তিযুক্ত নয়।” তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, বিশেষ একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রাম সফরে আসেন। সফরকালে তিনি মনজুর আলমকে ফোন করে তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সৌজন্যতার খাতিরে সাবেক মেয়র তাকে দুপুরের খাবারের জন্য নিজ বাসায় আমন্ত্রণ জানান। সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর গড়িয়েই বিকেল তিনটার দিকে হাসনাত তার বাসায় পৌঁছান এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে আলাপ-আলোচনা করেন।

তবে এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরপরই বাসভবনের বাইরে কিছু স্থানীয় যুবক জড়ো হতে শুরু করে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই বাইরে বেরিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কিছু যুবক নিজেদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসনাতকে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করছেন। তারা সাবেক মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের কারণ জানতে চান এবং তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক অতীত, অবসর ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি

মনজুর আলম এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি পূর্বে বিএনপি সমর্থিত মেয়র ছিলেন এবং কখনো আওয়ামী লীগ-এ যোগ দেননি। তৎকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের রাজনীতির সাথে তার কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ ছিল না। তিনি দাবি করেন, তার বাসার সামনে জড়ো হওয়া যুবকদের অধিকাংশ বিএনপি সমর্থিত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং দাতব্য কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটি শুধুই গুঞ্জন। নির্বাচন নিয়ে কারও সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিএনপি-র সমর্থনে জয়লাভ করে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সততার সঙ্গে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #সংবাদ #বাংলাদেশ