খালেদা জিয়ার অবদান ও নেতৃত্বের স্মরণে আলোচনা সভা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতারা তার রাজনৈতিক জীবনের অসামান্য অবদান স্মরণ করেছেন। বিএনপি-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিক সংগ্রামে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক দল পুনর্গঠনে ভূমিকা
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের নানা রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের জুড়ি নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনজুড়ে অগণিত বাধা-বিপত্তি, জেল-জুলুম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও তিনি কখনো নিজের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিএনপি যে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন এই আপসহীন নেত্রী। তার আদর্শ, নীতি ও অদম্য সংগ্রাম সর্বদাই সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য এক নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তৎকালীন চরম রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখেও তিনি আপসহীনভাবে দলকে ধারণ করেছিলেন এবং সব প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত রূপ দান করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তার এ ঐতিহাসিক অবদান দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর অধ্যায় হিসেবে সংসংরক্ষিত হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও দলীয় লক্ষ্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আগামী দিনে দলকে আরও বেগবান, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে একটি সত্যিকারের প্রগতিশীল ও গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়াই এই দলটির প্রধান অঙ্গীকার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীত ও ভবিষ্যতে প্রতিটি সংকটপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সুসংহত করার সংগ্রামে এই দল সামনের সারিতে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি গণমানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইতিপূর্বে ঘোষিত ভিশন-২০৩০ এবং পরবর্তীতে প্রণীত ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিনগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিশেষ প্রার্থনা ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এই দোয়া মাহফিলে দলের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক উপস্থিত থেকে অংশ নেন। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক ভাবগম্ভীর রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণতন্ত্র