বাংলা নববর্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা
পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি গভীর প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার এক বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই আন্তরিক বার্তা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, সময়ের নিরবচ্ছিন্ন পরিক্রমায় আমাদের দ্বারে পুনরায় সমাগত হয়েছে নতুন একটি বাংলা নববর্ষ। তবে এবারের বর্ষবরণ বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে আমাদের জীবনে উপস্থিত হয়েছে। তিনি এই নববর্ষকে জাতির জীবনে এক অসামান্য ও تاریخی পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার
জামায়াত আমির তার লিখিত বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ জনগণ এক দীর্ঘ ও দুঃসহ শাসনের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপামর মানুষের ঐকবদ্ধ ও সাহসিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিকে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত করাই হোক এবারের নববর্ষের মূল প্রতিজ্ঞা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অদম্য লড়াই ও চরম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন সূচনাকে আমাদের ধারণ করতে হবে। জনগণের কাঙ্ক্ষিত, বৈষম্যহীন এবং একটি সুশাসিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি ও আমাদের যৌথ অঙ্গীকার।
ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান
দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি সকল স্তরের মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মূল কাঠামোতে ইতিবাচক সংস্কার আনা অত্যন্ত জরুরি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল নাগরিকের জন্য পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি, দেশের সর্বস্তরের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করি এবং একটি সুদৃঢ় মানবিক সমাজ ব্যবস্থার ভিত গড়ে তোলার লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাই।” তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সদিচ্ছা ও জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে দেশের যেকোনো সংকট উত্তরণ করা সম্ভব।
শান্তি, সমৃদ্ধি ও মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা
নতুন বছরের সূচনায় তিনি দেশের শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বছরের উদিত সূর্য জাতির জীবনে সমস্ত অন্ধকার, অন্যায় ও অবিচার দূর করে এক নতুন সম্ভাবনার আলোক বার্তা নিয়ে আসবে। বিবৃতির একেবারে শেষভাগে তিনি অত্যন্ত বিনীতভাবে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে অশেষ সাহায্য প্রার্থনা করে বলেন, “মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।” তিনি প্রত্যাশা করেন, সামনের দিনগুলোতে দেশের আপামর জনতা এক হয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সফল হবে এবং নববর্ষের চেতনা আমাদের সেই পথে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নববর্ষ #সংবাদ