বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক
রাজধানীর ঢাকা-র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ জাতীয় সেমিনারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে। তাঁর মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে গণবিরোধী ভূত ধরেছিল, পদচ্যুত হয়ে তিনি বিতাড়িত হওয়ার পর সেই একই অপচ্ছায়া এখন বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর বিপজ্জনকভাবে সওয়ার হয়েছে। আর সেই ক্ষতিকর ভূতের মূল লক্ষণই হলো দেশের সাধারণ জনগণকে বারবার অপমান ও চরম অবহেলা করা।
জাতীয় সেমিনার ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য
‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের যৌথ আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মামুনুল হক নিজেই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী-র সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেমিনারে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শাসনব্যবস্থার ত্রুটি ও জনগণের অধিকার রক্ষা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মামুনুল হক তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে স্বৈরাচারী শাসনের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল এদেশের সাধারণ জনগণকে নিয়ে এক নিরবচ্ছিন্ন তামাশা ও উপহাসের সামিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কোনো তোয়াক্কা না করে কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গণতন্ত্রের মনগড়া সংজ্ঞা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে সবশেষে দেশের চার কোটি ছাত্র-জনতাকে কুরুচিপূর্ণভাবে ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়ে শেখ হাসিনা নিজেই নিজের পতনের অন্তিম পেরেকটি মেরেছিলেন এবং আজ তিনি জনগণকে অবমূল্যায়ন করার চরম ও অনিবার্য পরিণতি ভোগ করছেন।
প্রধান বিরোধী দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা ও রাজনৈতিক আহ্বান
প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি-র বর্তমান ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মামুনুল হক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারাও দেশের সাধারণ নাগরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার পুরানো পথেই হাঁটছে। সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণকে অশিক্ষিত বা মূর্খ সাব্যস্ত করার মতো ঔদ্ধত্য দেখানো হচ্ছে এবং সংবিধান পাঠের অজুহাতে ৩শ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে মাস্টার সেজে শিক্ষা দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার দাম্ভিকতা ও অহংকারের একটি সুনির্দিষ্ট সীমা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উদাহরণ টেনে বলেন, সিংহ, গাধা ও শিয়ালের শিকার বণ্টনের নির্মম পরিণতি যেন কারও জীবনে না আসে। শেখ হাসিনা গাধার মতো চরম বোকামি ও দূরদর্শিতার অভাবে আজ রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে সীমান্তের ওপারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে সত্তর বছরের পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-কে তিনি সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি-কেও ঐতিহাসিক এই করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং মসনদে বসে জনগণকে ইঁদুর বা ক্ষুদ্র ভাবার মানসিকতা অবিলম্বে পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়_সংকট