গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের পরিণতি ভয়াবহ হবে: জাতীয় সেমিনারে রাজপথের নেত্রীবর্গ
রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক বক্তারা তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, গণভোটের রায় ও জনগণের স্পষ্ট রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে চরমভাবে উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করার মারাত্মক খেসারত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে। তারা জাতীয় সংকট নিরসনে অতি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ
কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় আলোচনা সভার আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সেমিনারে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি-র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এখন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বিক স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করা যায়—তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করার কথা ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন যে, হামের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যগত দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দেশে চলমান জ্বালানি সংকট সমাধানের কার্যকর কৌশল নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেমিনার ও গবেষণা হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।
তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, গত ১৬ বছর ধরে যে সংস্কারের কথা বলতে হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমাদের সেসব নিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে। তিনি এই গভীর জাতীয় সংকটের জন্য বিএনপি-র রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলকে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিএনপি সমগ্র জাতিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের দিকে টেনে এনেছে এবং এর পূর্ণ দায়ভার ও রাজনৈতিক পরিণতি তাদেরকেই শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে, যা সহজ হবে না।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পেক্ষাপট ও মতপার্থক্য
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের চিরতরে বিলোপ সাধন। কিন্তু বিএনপি কেবল দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রতি আগ্রহী ছিল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি জানানো হলেও পরবর্তীতে জাতীয় স্বার্থে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি জুলাই সনদ এবং জুলাই আদেশকে আলাদা করার অপচেষ্টা করছে, কারণ তারা এটিকে নিজেদের দলীয় ইশতেহারে রূপ দিতে চায়। বিদ্যমান সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই গাঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এসব বিষয় মেনে নেওয়ার পর এখন কথা ভঙ্গ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
সংকট নিরসনে সংস্কার পরিষদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
বর্তমান জটিল সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে সরকারকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমীর মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপি-র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াত-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপি-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #গণভোট #জাতীয়_সংকট