ইসলামী ব্যাংকে নতুন অস্থিরতা ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব

ঢাকা-র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির শফিকুর রহমান দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের ব্যাংকিং খাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

রেমিট্যান্স আহরণ ও ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব

বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন যে, দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ একাই আহরণ করে ইসলামী ব্যাংক। সুতরাং এই ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে বা এর অস্তিত্ব বিপন্ন হলে দেশের পুরো অর্থনীতি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই ব্যাংকের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে দেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।” ব্যাংকিং খাতকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ব্যাংক ব্যবস্থার দলীয়করণ রোধ ও জনগণের অধিকার

ব্যাংক খাতের দলীয়করণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, “সাবধান করে দিচ্ছি, এইটাকে দলীয়করণ করবেন না। যদি দলীয়করণ করেন তবে ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।” তিনি জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ দেশের সকল ব্যাংকের মূল মালিক প্রকৃতপক্ষে সাধারণ জনগণ। তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের প্রতি গণজাগরণের আহ্বান

সেমিনারে তিনি দেশের আপামর জনসাধারণকে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনগণকে বলবো— জেগে উঠুন, আওয়াজ তুলুন, ওদের কদর্য চেহারা জাতির সামনে উন্মুক্ত করে দিন। থামিয়ে দিন, থামিয়ে দিতেই হবে।” আর্থিক খাতের যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই একমাত্র সমাধান বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন ও সমন্বিত প্রতিরোধের অঙ্গীকার

১১ দলীয় ঐক্য-র উদ্যোগে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে তিনি বিরোধীদলের রাজনৈতিক দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চায় না, বরং দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবর্তন করতে চায়।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, “অপসংস্কৃতি যেখানেই থাক—সেটা ব্যাংকিং সেক্টর হোক, অর্থনীতিতে হোক, সংস্কৃতিতে, শিক্ষাব্যবস্থায় কিংবা দেশের আইন অঙ্গনে—ইনশাআল্লাহ আমরা বসে থাকবো না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।” দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

#অর্থনীতি #ইসলামী_ব্যাংক #বাংলাদেশ #রাজনীতি