সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নে হিসাব-নিকাশ: সরগরম রাজনীতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার ঘোষণার পরপরই নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে বিজয়ী প্রধান প্রধান দলগুলো সংসদে তাদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী প্রতিনিধি মনোনীত করার সুযোগ পাবে। এই ধারায় বিএনপি জোট সর্বোচ্চ ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট পাবে ১৩টি আসন এবং ১টি আসন যাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝুলিতে।
মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির সিনিয়র ও পরিচিত মুখসমূহ
বিএনপি-র জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬টি সংরক্ষিত আসনে স্থান পেতে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও নানা লবিং। শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। দলের সাবেক প্রবীণ সংসদ সদস্য, মহিলা দলের শীর্ষ নেত্রী এবং বিগত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রার্থীরা আলোচনায় বেশ এগিয়ে আছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেতা শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা এবং নাদিরা চৌধুরীর নামও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
সংস্কৃতি, পরিবার ও পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব
রাজনৈতিক ও দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোও এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সাবেক উপপ্রতিনিধি হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ এবং সালিমা বেগম অরুনির মতো ব্যক্তিত্বরা তালিকায় স্থান পেতে পারেন। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে শাকিলা ফারজানা, ফারহানা চৌধুরী বেবী ও সাবরিনা খানের নাম ঘুরেফিরে আসছে। এছাড়া ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেত্রীরা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন।
পেশাজীবী ও ছাত্ররাজনীতি থেকে আসা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি এবং সাংবাদিক কাজী জেসিনের নাম শীর্ষে রয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরাও তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
মনোনয়ন নির্ধারণে রাজপথের ত্যাগ ও সততার প্রাধান্য
সংরক্ষিত আসনে কাদের টিকিট দেওয়া হবে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনে করেন, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে গঠনমূলক বক্তব্য রাখার সক্ষমতা এবং বিগত রাজপথের আন্দোলনে যাদের ত্যাগ ও অবদান রয়েছে, তাদেরই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যারা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও দল ত্যাগ করেননি, দল তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের রাজনৈতিক ত্যাগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক অবদান, এলাকার প্রতিনিধিত্ব এবং সংসদে কার্যক্ষম ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে স্থায়ী কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বকে তুলে আনাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য।
#রাজনীতি #জাতীয়_সংসদ #সংরক্ষিত_নারী_আসন #বাংলাদেশ