সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে: জামায়াত

ঢাকার মগবাজারে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে এবং নির্ধারিত বৈঠকসমূহ এড়িয়ে গিয়ে রাজনৈতিক দল বিএনপি সারাদেশে এক কৃত্রিম ও অহেতুক রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে বিএনপি প্রদত্ত নোট অব ডিসেন্ট সম্পূর্ণভাবে খারিজ ও প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রায়কে উপেক্ষা করে কেবল সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশ আবারো ভয়াবহ একনায়কতন্ত্র ও তীব্র কর্তৃত্ববাদী শাসনের অন্ধকারে ধাবিত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জনসংখ্যার রায়, জুলাই সনদ ও জাতীয় ঐকমত্যের গুরুত্ব

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো পরিবর্তন এবং মৌলিক সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, দেশের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে তা চূড়ান্তভাবে বাতিল করে দিয়েছে। “ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি-র নৈতিক দায়িত্ব ছিল জনগণের এই সুস্পষ্ট রায়কে বিনীতভাবে মাথা পেতে নেওয়া।” কিন্তু দলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে এবং রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকগুলো বর্জন করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই রাজনৈতিক সংকট নিরসনের চাবিকাঠি এখন সম্পূর্ণরূপে বিএনপি-র রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে, কারণ সংকটটি তাদের কারণেই তৈরি হয়েছে এবং সমাধানের পথও তাদেরই বের করতে হবে।

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা ও রাজপথের হুঁশিয়ারি

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স কেবল এক মাস পার হলো, অথচ এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শাসক দলের বিভিন্ন নেতা রাজপথের গণআন্দোলন কঠোর হাতে দমনের নগ্ন হুমকি দিচ্ছেন।” এই ধরনের হুংকার ও রক্তচক্ষু প্রদর্শনের ভাষাকে তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পুনরাবৃত্তি বলে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও মতামত উপেক্ষা করে, তবে বিরোধীদের সামনে রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানানো ছাড়া আর কোনো গণতান্ত্রিক পথ খোলা থাকবে না।

জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আইন শৃঙ্খলা परिस्थिति

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক পদগুলোতে যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল দলের মধ্যে প্রাথমিক ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, বিএনপি সেখানে অসম্মতি ও ভিন্নমত প্রকাশ করে প্রমাণ করেছে যে তারা দেশে আবারো দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার পথ সুগম করতে চায়। এছাড়া দেশের চলমান সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, অথচ দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। বাজার সিন্ডিকেট ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সেচ সংকট দেখা দেওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম অদূর ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি ভোলা জেলায় জামায়াতের এক নারী নেত্রীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারায় গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পোস্টের জন্য প্রতিবন্ধী সন্তানের জননীকে হাতকড়া পরানো এক চরম অমানবিক ঘটনা। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতিনিধি সার্জিস আলমসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #সংবিধান_সংস্কার