সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর উত্তরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ মনিরুল হক চৌধুরীর

জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দেওয়া জবাবে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন যে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রীরা যেভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন উত্তর দিতেন, বর্তমান মন্ত্রীও ঠিক একইভাবে বাঁধাধরা উত্তর প্রদান করেছেন। এই ধরণের বক্তব্যে জনগণের প্রকৃত সমস্যার কোনো সমাধান হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পদুয়ার বাজার এলাকার ভয়াবহ সড়ক পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলের চরম ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি নোটিশ প্রস্তাবে উল্লেখ করেন যে, সড়ক বিভাগ কর্তৃক সৃষ্ট পদুয়ার বাজার মোড়ে অবৈধ দানবীয় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় প্রবেশপথে টমছম ব্রিজসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ না করায় এলাকাটি সর্বসাধারণের জন্য এক ভয়ানক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিনি এই মারাত্মক জনদুর্ভোগের স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নোটিশের ওপর সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে সংসদে বক্তব্য প্রদান করতে বলেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি ইউলুপ নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কাজ অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে চলমান প্রকল্পের বাজেট বা ব্যয় বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। মন্ত্রী আরও জানান যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সাথে পদুয়ার বাজারসহ পুরো মহাসড়কে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্ন, তীব্র প্রতিবাদ ও ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে মনিরুল হক চৌধুরী মন্ত্রীর এই লিখিত বিবৃতিতে পুনরায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি স্পষ্ট প্রশ্ন করেছি সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হলো, কিন্তু অনুমোদিত আন্ডারপাস ও ওভারপাসগুলো কোথায় গেল?” তিনি অভিযোগ করেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে পথ বন্ধ করা হয়েছিল এবং এরপর অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেও কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “ওভারপাস ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের এই বহু পুরোনো রবীন্দ্র সংগীত আমরা অনেক শুনেছি। আমাদের শান্তিতে মরতে দিন। মন্ত্রী কেবল আমলা ও অর্থ লুণ্ঠনকারীদের শেখানো কথাই পুনরাবৃত্তি করছেন।”

এর জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, এটি একটি পূর্ববর্তী চলমান প্রকল্প। বর্তমান সরকার কেবল নকশা পরিবর্তন ও বাজেট সমন্বয় করে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবসহ কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। পরবর্তীতে স্পিকার জানতে চান এসব পদক্ষেপে সমস্যাটির পুরোপুরি সমাধান হবে কি না; জবাবে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে সমস্যাটি কেবল আংশিক সমাধান হবে।

#জাতীয়সংসদ #সড়কদুর্ঘটনা #কুমিল্লা #বাংলাদেশ