স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত ব্যক্তি বসিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে সংবিধানের ৫৯ নম্বর অনুচ্ছেদ চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতৃত্ব। এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তব্য দানকালে দলটির প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে, একদিকে দায়িত্বশীল মহল থেকে দেশের সংবিধানের কথা বারবার বলা হচ্ছে, কিন্তু অন্যদিকে সিটি করপোরেশনসহ সামগ্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ একচ্ছত্র ও একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে সম্প্রতি আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও সুধী সম্মেলনে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
মেয়রের মেয়াদ বহাল থাকা ও প্রশাসনিক জটিলতা
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী-র নেতৃবৃন্দ বলেন, আদালতের একটি নির্দিষ্ট রায়ের দোহাই দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব অব্যাহত রাখার বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ এখনও একটি রহস্যাবৃত বিষয় হিসেবেই দেখছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হলেও, নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল থাকা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। এই ধরণের চর্চা অব্যাহত থাকার কারণে নগরের সাধারণ নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত জনসেবা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
নগরবাসীর ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে চট্টগ্রাম নগরীর সার্বিক নাগরিক সংকট ও দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত মশার উপদ্রব, তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, মারাত্মক যানজট, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা, নালা-নর্দমার তীব্র দুর্গন্ধ, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ মারাত্মক জটিল সমস্যায় সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়ত সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছে।
একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয় যে, বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম শহরের প্রধান অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গৃহীত ৩৬টি খাল সংস্কার প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও যন্ত্রণা কোনোভাবেই হ্রাস পাচ্ছে না। এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিরসনে অগণিত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা সত্ত্বেও তার সঠিক সুফল নাগরিকেরা পাচ্ছে না বলে কঠোর সমালোচনা করা হয়।
অবিলম্বে সর্বত্র সিটি নির্বাচনের জোর দাবি
রাজনৈতিক দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভোটে নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সকল সিটি করপোরেশন পরিচালনা করার কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, “অবিলম্বে চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশের সকল সিটি করপোরেশনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করতে হবে।” অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে স্থানীয় শাসনের ক্ষমতা গচ্ছিত রাখার প্রক্রিয়াটি দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর ও সংকটময় করে তুলছে বলে তারা হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।
উক্ত সম্মেলনে স্থানীয় ও থানা পর্যায়ের অগণিত গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং রাজনৈতিক কর্মী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করার ওপর সর্বাধিক জোর দাবি জানান।
#রাজনীতি #চট্টগ্রাম #নির্বাচন #সংবাদ