জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের ফলেই আজ রাজপথে ও সংসদে কথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপ্লব গণমানুষকে নতুন জীবনের পথ দেখিয়েছে। তাই এই বিপ্লবের অর্জনকে অস্বীকার করা মানে জনগণের নতুন জীবনকে অস্বীকার করার শামিল। সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গণরায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানানো হয় এই সমাবেশ থেকে।

আজহারুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, এই জুলাই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা সরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল মূলত বহুকাল ধরে চলে আসা পুরোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে একটি নতুন কল্যাণমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না রেখে তা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

এককেন্দ্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি প্রতিহত করার বার্তা

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, আজ গণভোটের গণরায় অস্বীকার করার অর্থ হলো দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সরাসরি মতামতকে অবমূল্যায়ন করা। এর মাধ্যমে পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রভিত্তিক করার চক্রান্ত চলছে, যা অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ-এর মানুষ ভোগ করেছে। গত ১৬ বছরে একচ্ছত্র শাসনের কারণে হাজার হাজার তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সর্বদা গণমানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে।” ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জোরপূর্বক টিকিয়া থাকার স্বপ্ন বোকার স্বর্গে বাস করার শামিল। তিনি অতীতের আন্দোলন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারকে অবিলম্বে জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সুবিধাবাদী রাজনীতির সমালোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমির মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের রায়কে রাজনৈতিক কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমুখী যে সিদ্ধান্তগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সেগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, দ্বিমুখী নীতি বা রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা বাংলাদেশের সচেতন জনগণ পছন্দ করে না। গণমানুষের রায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা না দেখালে সংসদে ও রাজপথে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন

জাতীয় নাগরিক পার্টি-র (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে সরকার গঠন যদি বৈধ হতে পারে, তবে জনগণের ভোটেই রাষ্ট্র সংস্কার অবৈধ হতে পারে না। এই ধরনের দ্বিচারিতা দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নতুন সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সংবিধান হতে হবে জনগণের সংবিধান, যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত থাকবে।

তিনি জানান, গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের বিকল্প নেই। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, এলডিপি ও জাগপাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #গণভোট #সংবাদ