মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অতীতকে আঁকড়ে না থাকার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অতীতকে ভোলা সম্ভব না হলেও, অতীতের মধ্যে আটকে থাকা উচিত নয়, যা দেশের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই মন্তব্যটি ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিটের এই বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় করা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় ছিল আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে কথা বলা তার উচিত নয় এবং বাংলাদেশের জনগণ তাদের জন্য যা ভালো মনে করবে, সেটাই হবে। তিনি আরও বলেন যে, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী দল বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে এবং তারা দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি প্রতিফলিত করে।

দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে, এই সম্পর্ক সব সময় বিদ্যমান থাকবে, এবং তার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ এ দায়িত্ব পালন করলেও সিদ্ধান্ত একই থাকবে। ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, “আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো হয়, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা করা।” তিনি প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সবাই সমান। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়।” এই বক্তব্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।

স্থানীয় নির্বাচন ও চ্যালেঞ্জ

বৈঠকের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান যে, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার তাদের দেশের স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এই নির্বাচনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারকে অবশ্যই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পথচলা

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন যে, চ্যালেঞ্জ থাকবেই এবং সেগুলোকে মাথায় রেখেই সামনে অগ্রসর হতে হবে। তিনি আরও জানান যে, দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে অবাধ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো মন্তব্য করেননি। এ সময় তিনি দুই দেশ মিলেমিশে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই বৈঠকটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। উভয় পক্ষই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।