চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিশেষ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন পদক্ষেপ
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুদৃঢ় উন্নয়ন এবং জনমনে পূর্ণ আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই চাঁদাবাজ ও দাগি সন্ত্রাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মুখামুখি করা হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ড পুনর্বহাল
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই রুল অব ল’ বা আইনের শাসন নিশ্চিত করা।” তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অতীতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যে সমস্ত নেতিবাচক কালিমা ও বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল, তার জন্য মূল বাহিনীর সাধারণ সদস্যরা কোনোভাবেই দায়ী ছিলেন না। বিগত সময়ের একনায়কতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শাসনের সুযোগ নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রাষ্ট্রীয় এই বাহিনীকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এখন থেকে পুলিশ বা অপরাপর বাহিনীতে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারী আদেশ বা নির্দেশনা কার্যকর করা হবে না। সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মাবলী, স্বচ্ছতা এবং পেশাদার চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করেই বাহিনী পরিচালিত হবে। নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা যাতে কোনো অবস্থাতেই চেইন অব কমান্ড ভেঙে সরাসরি নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেই বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাহিনীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত ঘাটতিগুলো দ্রুগ সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও পরীক্ষামূলক নতুন ট্রাফিক পরিকল্পনা
ঢাকা নগরীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ও সীমাহীন যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হয়েছে। নগরীর সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অননুমোদিত নন-মোটরাইজড যানবাহনের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই বর্তমানে প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর হতে সচিবালয় পরীক্ষামূলক ভিআইপি রোড ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আজ থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্তরা থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটিকে পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রাথমিকভাবে এই নির্দিষ্ট সড়কটিতে অননুমোদিত ধীরগতির যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে সীমিত ও সুনিয়ন্ত্রিত করা হবে। যদি এই পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ক্রমান্বয়ে রাজধানীর অপরাপর অন্যান্য প্রধান সড়কগুলোতেও একই ধরনের কঠোর ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, শহরের যানজট নিরসনে সাধারণ জনগণের ট্রাফিক আইন মেনে চলার মনস্তাত্ত্বিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাম লেনের সড়ক উন্মুক্ত রাখা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি জনগণকে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার অনুরোধ জানান।
#বাংলাদেশ #আইনশৃঙ্খলা #যানজট #প্রশাসন