মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট ও সরকারের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অত্যন্ত জটিল সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই অভূতপূর্ব বৈশ্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হাতে থাকা জ্বালানি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করাই বর্তমানে বাংলাদেশ-এর একমাত্র বাস্তবসম্মত ও কার্যকর বিকল্প। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি ধাপে ধাপে মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং খুব দ্রুতই বিস্তারিত নির্দেশনাবলীসহ সরকারি প্রেস রিলিজ জারি করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংকট ও মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
এর আগে মন্ত্রী কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি ঘাটতি এবং তা নিরসনে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অশান্ত ঘটনাবলীর কারণে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব আমাদের দেশের ওপরও পড়েছে। পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশ থেকে জ্বালানির যেসব নির্ধারিত চালান আসার কথা ছিল, সেগুলোর কিছু কিছু আসা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।” এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি চলমান জরুরি সংকটকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জবাবে তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানো হবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান
বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশের সকল স্তরের সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতি জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রয়োজনীয় অপচয় অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহী হওয়া এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা বাজারে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ পরিহার করা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। জরুরি জ্বালানি সাশ্রয় কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা না গেলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে তরল জ্বালানি ক্রয়ের চেষ্টা করা সত্ত্বেও আশানুরূপ কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারের হাতে এই মুহূর্তে মজুদ থাকা সম্পদ দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত পাহারা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করে মন্ত্রী জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও একই বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় লোডশেডিং না রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। যদি দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও সাশ্রয়ী হন, তবে চলতি মার্চ মাস এবং পরবর্তী ঈদুল ফিতরের ছুটি পর্যন্ত দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি সহনীয় রাখা সম্ভব হবে। ছুটির পরে শিল্পকারখানার বড় চাহিদা কিছুটা কমে আসলে এই চাপ আরও অনেক হ্রাস পাবে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতি ঘটলে তার দীর্ঘমেয়াদী আঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মকভাবে পড়বে। ইতিমধ্যে সীমান্ত পার হয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবিকে অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রেশনিং প্রক্রিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি সেক্টরে জ্বালানির সুষম বণ্টন করা হবে। প্রতিদিন সার্বিক চিত্র দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি যেন জনগণের ভোগান্তির কারণ না হয়, সেজন্য সকল পর্যায়ে নিবিড় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
#জ্বালানিসংকট #বাংলাদেশ #বিদ্যুৎ #অর্থনীতি #সংবাদ #মধ্যপ্রাচ্য