পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব সফরে জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় প্রধান নেতা ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব গমন করেছেন। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি সৌদি আরব-এর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। এই সফরটি মূলত বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্ব পালনের মাঝখানে তিনি এই সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।
সফরের বিস্তারিত সময়সূচি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা
দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পবিত্র ওমরাহ পালনের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামী ছয় মার্চ সকালে ডা. শফিকুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। সফরকালীন সময়ে তিনি পবিত্র নগরী মাক্কা-য় কাবা শরীফ তাওয়াফ ও ইবাদত করবেন। ওমরাহ পালনের সকল ধাপ সম্পন্ন করে তিনি পরবর্তীতে পবিত্র নগরী মদীনা-য় গমন করবেন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। সেখানে তিনি দেশ, জনগণ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন।
আরও জানা গেছে, সফরকালে তাঁর সাথে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও ঘনিষ্ঠ সফরসঙ্গী রয়েছেন। সফরটি সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলগত বৈঠকের সুযোগ রাখা হয়নি। বিমানবন্দরে বিদায়লগ্নে জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অনুসারী কর্মীগণ তাঁহাকে আন্তরিক শুভকামনা জানান এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বিদায় সম্ভাষণ জ্ঞাপন করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যার ফলে তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বিদেশ গমন রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি সচেতন দেশবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। জাতীয় সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের উপস্থিতি শক্তিশালী করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাঁর ধারাবাহিক নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, “আমিরে জামায়াতের এই সফর নিছকই একটি ধর্মীয় সফর এবং আত্মশুদ্ধিমূলক আত্মিক পথচলা।” রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় বের করে তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে নিজেকে সমর্পণ করতে এবং সমগ্র দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় তিনি এই সফর বেছে নিয়েছেন। ওমরাহ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেই তিনি নতুন উদ্দীপনায় দলীয় কর্মকাণ্ড এবং সংসদীয় দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হবেন।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও সার্বিক সাংগঠনিক প্রস্তুতি
জামায়াতে ইসলামী-র সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ দলপ্রধানের সফর সফল হওয়া এবং সুস্থ শরীরে দেশে ফিরে আসার জন্য পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নিকট দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর শারীরিক সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, পবিত্র ওমরাহ পালনের এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও গভীর আত্মিক শক্তি নিয়ে দেশে ফিরে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আরও গতিশীল ভূমিকা রাখবেন।
উল্লেখ্য, আমীরের অনুপস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ দৈনন্দিন কাজ ও সার্বিক সাংগঠনিক তদারকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের যৌথ দিকনির্দেশনায় সচল থাকবে। এর ফলে সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হবে না এবং পূর্ব নির্ধারিত সকল কর্মসূচি যথারীতি পালিত হবে। তিনি দেশে ফেরার পরই পরবর্তী নতুন রূপরেখা ও নীতি নির্ধারণ করা হবে।
#রাজনীতি #জামায়াত #ওমরাহ #সৌদি_আরব #বাংলাদেশ