পররাষ্ট্রনীতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে এনসিপির কড়া সমালোচনা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ও পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বার্তাকে “অত্যন্ত নতজানু” বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশ আবারও কোনো দুর্বল বা দাসত্বমূলক পররাষ্ট্রনীতির ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে কি না।
চট্টগ্রাম শহরের দি কিং অব চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত এক বিশেষ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি স্বাধীন দেশের আন্তর্জাতিক নীতি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আত্মমর্যাদাপূর্ণ, দৃঢ় এবং জাতীয় স্বার্থনির্ভর।
সার্বভৌম নীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং সরকারের সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, মুসলিম বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতার শাহাদাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের নমনীয় ভাষা ব্যবহার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, তা চরম হতাশাজনক। এই ধরনের নতজানু অবস্থানের ফলে সাধারণ দেশবাসীর মনে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে যে, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ শক্তি বা বৈশ্বিক পরাশক্তির তোষামোদ কিংবা এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে কি না।
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে ঘোষণা করেন, “আমাদের মূল রাজনৈতিক ও নীতিগত সংগ্রাম কেবল একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি যেকোনো বৈশ্বিক শক্তির অন্যায় আধিপত্যের বিরুদ্ধে।” তিনি স্পষ্টভাবে স্পষ্ট করেন যে, কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
একই সাথে, দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একজন বিশেষ উপদেষ্টাকে বসানোর সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তির স্বার্থরক্ষা কিংবা অতীতের কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের বিশেষ অনুদান হিসেবে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত।
রাজনীতি, নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বার্তা
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নতুন ও মুক্ত বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি এবং পতন হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কখনো পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে না। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি, স্বৈরাচার এবং অন্যায্য আধিপত্যের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত সংগ্রাম এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তরুণ সমাজের অদম্য ও বিপ্লবী শক্তিকে বিভিন্ন উপায়ে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণমানুষের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে এনসিপি জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পেতে সক্ষম হয়েছে এবং রাজপথের ন্যায়সংগত লড়াই এখন সংসদের ভেতরেও সমান তালে অব্যাহত রাখা হবে। आगामी স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীকে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বিচার বিভাগকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং গণভোটের রায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অবৈধ দখলদারত্ব, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-এর সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
#রাজনীতি #পররাষ্ট্রনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #এনসিপি