পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। দিল্লিতে ‘আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)’ নেতাদের যুক্ত করে ভারত সরকারের একটি সেমিনারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত ২৯ আগস্ট দিল্লিতে ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবকে (এফসিসি) আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দিতে দিল্লি পুলিশ অস্বীকার করে। এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে একটি উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সফরের তারিখ ঠিক করা হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।” সাংবাদিকেরা যখন জানতে চান যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে গিয়েছিল কি না, তখন প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “না, কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, কোনো তারিখ নির্ধারণ না হলেও আলাপ-আলোচনা চলছিল।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার সেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং বর্তমানে আবারও আলোচনা চলছে। হুমায়ুন কবির এই আশাও ব্যক্ত করেন যে, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়।

চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এটি কোনো চাপের মুখে অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় হচ্ছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। এটি না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না এবং দেশকে ব্যবসা হারাতে হবে। এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে বলে তিনি জানান।

উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে নাকি এটি প্রাথমিক আলোচনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় আছে। তিনি জানান, বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগতভাবে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।