পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ভারত সরকারের একটি সেমিনার আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই সেমিনারে ‘আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)’ নেতাদের যুক্ত করার কথা ছিল। একইসঙ্গে, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসব ইস্যুতে তিনি কথা বলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’

গত ২৯ আগস্ট দিল্লিতে ‘আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)’ এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার আয়োজন করার কথা ছিল। দিল্লি পুলিশ ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) এই সভার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, সেই আশা তিনি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে একটি উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই সফরটি হবে। পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারিখ ঠিক করা হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।’

সাংবাদিকেরা যখন জানতে চান যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তা নতুন করে আবার শুরু বা সচল হলো কি না, তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়।’ তিনি জানান, কোনো তারিখ নির্ধারণ না করলেও আলাপ-আলোচনা চলছিল। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। আমরা সেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন আবারও আমাদের আলোচনা চলছে।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো চাপের কারণে নয়, বরং এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নতুন রুট চালু ও ব্যবসা ধরে রাখতে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে বৈদেশিক সম্পর্কে চমৎকার ভারসাম্য রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী, তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং নীতিগতভাবে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।