শেকৃবিতে সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশে এই ইফতার অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও সৌহার্দ্য বিনিময়

আয়োজিত এই সুধী ও ইফতার সমাবেশে প্রধান ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের শাখা নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখার সভাপতি মো. আবুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নাইম। তাঁদের পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিগণ এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ক্যাম্পাসের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

রমজানের শিক্ষা ও তাকওয়া অর্জনের আহ্বান

অনুষ্ঠানে সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে মো. আবুল হাসান পবিত্র মাহে রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পবিত্র রমজান মাস আমাদের মূলত আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের মহান শিক্ষা প্রদান করে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে, তাকওয়া কেবল বাহ্যিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক পরিবর্তনের একটি সুনির্দিষ্ট মাধ্যম। বাস্তব জীবনে এমন তাকওয়া অর্জন করা জরুরি, যার মাধ্যমে আমাদের আচার-আচরণে কোনো সহপাঠী, হলের রুমমেট, সিনিয়র কিংবা জুনিয়র শিক্ষার্থী কষ্ট না পায়। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ন্যূনতম ক্ষতি বা সম্মানহানি যেন না ঘটে, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা নৈতিক দায়িত্ব।

গঠনমূলক মতামত ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে সকল সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে ক্যাম্পাসের প্রতিটি সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও গঠনমূলক মতামত ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় ক্যাম্পাসের উন্নয়ন ও কল্যাণে তাঁদের স্বাধীন মতামত ও পরামর্শ প্রদান করতে পারেন।

একই সাথে শেকৃবি ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য সকল সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে সুদৃঢ় পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, আন্তঃসংগঠন সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও প্রগতিশীল শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ইফতারের পূর্বে দেশ, জাতি এবং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনজাত পরিচালনা করা হয়।

#শেকৃবি #ছাত্রশিবির #ইফতার_মাহফিল #বিশ্ববিদ্যালয়_সংবাদ #ক্যাম্পাস_বার্তা