চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সংঘটিত এই সংঘর্ষের সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। সংঘর্ষের ঘটনা ও এর প্রতিক্রিয়া পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার ও সীতাকুণ্ড রুটের মিনিবাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক সমিতি। বাস ও হিউম্যান হলার মালিক সমিতির চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. খোরশেদ আলম জানান, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় তাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং যানবাহনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রুটের সব ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের পর হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বেলা দুইটার দিকে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়, যার ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক সচল করে। এতে যানবাহন প্রায় এক ঘণ্টার মতো বন্ধ ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, দুই পক্ষের হামলায় দুজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উত্তেজনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। একই ক্লাবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় গত দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি পক্ষকে দুটি পৃথক সময় বেঁধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দুপুর দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বেলা ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার জন্য সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দাবি করেন, তাঁরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং থানা-পুলিশ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তাঁদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল।