ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী রাজনীতির নতুন সমীকরণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন সার্বিক রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নতুন সরকার সাময়িকভাবে প্রশাসক নিয়োগ করলেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ দুই আসনে মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণ তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে দেশের প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দল। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ তীব্র করেছেন। শুধু অভ্যন্তরীণ কৌশলই নয়, জাতীয় নির্বাচনের মতো আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের মেরুকরণ এবং কৌশলগত সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
জোটগত অবস্থান ও প্রার্থী মনোনয়নে নানা চমক
জামায়াতে ইসলামী-সহ ১১ রাজনৈতিক দলের জোট আসন্ন এই স্থানীয় নির্বাচনে বেশ শক্ত ও সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে চায়। এর অংশ হিসেবে দলগুলো সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ও তাদের সামাজিক পরিচিতি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি করপোরেশনে কারা মেয়র পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চলছে। কৌশলগত কারণে জোটের শরিকদের জন্য নিজেদের আসন ছেড়ে দিয়ে যৌথ প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে, যা রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক জোট এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জোড়দার প্রস্তুতি
দলীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সদ্য ক্ষমতা গ্রহণকারী বিএনপি সরকার উত্তর সিটিতে প্রশাসক বসালেও সম্ভাব্য ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে এখনই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে জোটে থাকা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। মেয়র পদে Nomination পেতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে।
মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় উত্তর সিটির দলীয় শীর্ষনেতা সেলিম উদ্দীন এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনি সিলেট-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যিনি পূর্বে ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করেছিলেন, তার নামও দলীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তবে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের দ্বিতীয়বার মেয়র আসনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী নীতি বহাল রাখা হতে পারে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত এবং দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী নির্ধারণ ও কাউন্সিলরদের রূপরেখা
দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হিসেবে ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম, জাহিদুল ইসলাম এবং সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নানের নাম প্রাথমিক আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সূত্রমতে, দক্ষিণ সিটিতে জামায়াত সম্পূর্ণ সমর্থন দিতে পারে এনসিপি প্রতিনিধিকে। জোটের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এখানে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার তীব্র সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এবং তিনি নিজেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতৃত্বে বিশেষ নির্বাচনী কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তরের জন্য আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদের নাম এনসিপির মধ্য থেকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। কেবল মেয়র পদই নয়, দুই সিটির সকল ওয়ার্ডের জন্য সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। গত এক বছর ধরে এলাকায় জনপ্রিয়, মাঠপর্যায়ে পরিচিত এবং অন্তত ১০ থেকে ২০ বছর ধরে দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত নেতাকর্মীদের প্রার্থীদের তালিকায় সার্বিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
#সিটি_নির্বাচন #ঢাকা_রাজনীতি #স্থানীয়_সরকার #নির্বাচনী_খবর