বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও পথসভা
বর্তমান বিএনপি সরকারের সফল ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেশের রাজধানী ঢাকা-র নয়াপল্টন এলাকায় এক বিশাল আনন্দ ও শুভেচ্ছা মিছিল করেছে সংগঠনটির অন্যতম অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুবদলের সাবেক বিশিষ্ট যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার সক্রিয় নেতাকর্মী ও সমর্থক অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজপথের ঐতিহাসিক নটরডেম কলেজ-এর সামনে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফকিরাপুল অতিক্রম করে। পরবর্তীতে মিছিলটি দলীয় পথসভা করার জন্য বিএনপি-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে এসে জড়ো হয় এবং সংক্ষেপিত সমাবেশের আয়োজন করে। পথসভা শেষে মিছিলটি ধীরে ধীরে নাইটিঙ্গেল মোড়-এর দিকে অগ্রসর হয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি
সমাবেশে সমবেত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে যুবদল নেতা গোলাম মাওলা শাহীন বলেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে শীর্ষ নেতা তারেক রহমান সরকার গঠনের শুরুতেই ১৮০ দিনের বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক কৃষক ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের কল্যাণে কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত চালুর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল।
এর পাশাপাশি তিনি বিগত সরকারগুলোর নানা অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমাদের দেশের স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় জুড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ও মাদরাসার সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়টি বিভিন্ন ক্ষমতাসীন সরকার চরমভাবে অবহেলা করে এসেছে।” তবে তরুণ নেতা তারেক রহমানের সুদৃঢ় দিকনির্দেশনায় বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণের পর দেশের সকল মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সম্মানজনক সরকারি বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং চলমান সংকট মোকাবিলা
বর্তমানে দেশজুড়ে বিরাজমান জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়টি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই সমগ্র বিশ্ব এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “বর্তমানে আমাদের দেশে যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে, তা মূলত বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক সংকটেরই একটি পরোক্ষ প্রভাব।” একই কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এত বড় বৈশ্বিক সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশের সচেতন সাধারণ জনগণ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করছেন এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ওপর আস্থা রেখে সময় দিচ্ছেন।
জনগণের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা
গোলাম মাওলা শাহীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে দেশের আমজনতা সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেবেন এবং অচিরেই আমরা দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।”
পরিশেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জনগণের প্রতি বিশেষ উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচিত সরকারকে পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার জন্য আরও কিছুটা ধৈর্য ধরে সময় দিন। ইনশাআল্লাহ, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জনগণের দৈনন্দিন জীবনের চলমান মূল সমস্যাগুলোর বেশিরভাগই জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে সমাধান করা সম্ভব হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #যুবদল #বিএনপি #সংবাদ