বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিদ্যমান পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পূর্বে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাতে হস্তান্তরের যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা থেকে সরে এসে মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে, এখন থেকে আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রিলিমিনারি (বাছাই), লিখিত এবং মৌখিক—এই তিন ধাপে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় চূড়ান্ত করা হয়, যা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিটি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি একটি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই উচ্চপদগুলোর নিয়োগও এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা ছিল। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ মাস আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, যা নিয়োগপ্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে পরিচালনা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি আলোচনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছিল। এই আলোচনা বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। যদিও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পূর্বে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমান সভার মাধ্যমে সেই আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং পূর্বের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যে মৌখিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে, তা খুব শিগগিরই গ্রহণ করা হবে। এই মৌখিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ভাইবা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে সহায়ক হবে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার ফলে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
এই সিদ্ধান্তটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি নিশ্চিত করে যে, শিক্ষক নিয়োগের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মান ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ শিক্ষক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নিয়োগপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।