আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু নিয়ে জামায়াতের চরম উদ্বেগ
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচেষ্টায় তীব্র নিন্দা এবং গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এক আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যালয় খুলে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা দেশের সার্বিক শান্তি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ ও মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষিদ্ধ শক্তির এই ধরনের অপতৎপরতা দেশের সাধারণ জনমনে চরম ভয়, সংশয় ও শঙ্কা সৃষ্টি করছে।
বিবৃতির বিস্তারিত তথ্য ও প্রশাসনিক বৈধতার প্রশ্ন
প্রকাশিত ওই জরুরি রাজনৈতিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র অন্যতম প্রভাবশালী শীর্ষনেতা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমানে আইনগতভাবে একটি পুরোপুরি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। ফলে দেশের কোনো স্থানে আইনগত বা প্রশাসনিক ভিত্তিতে কোনো ধরনের মিছিল, সভা কিংবা দলীয় কার্যালয় খোলার ন্যূনতম বৈধ এখতিয়ার বা রাজনৈতিক অধিকার তাদের একদমই নেই। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং সরকারের নমনীয়তার চরম সুযোগ ব্যবহার করে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য কোনোক্রমেই শুভকর হতে পারে না।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও আপসহীন অবস্থান
বিবৃতিতে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পূর্বে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি-র শীর্ষপর্যায়ের কিছু নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।” তাদের এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের সুযোগ নিয়েই নিষিদ্ধ এই রাজনৈতিক শক্তি আবারও সশরীরে মাঠে নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। জামায়াত নেতার মতে, শাসক দলের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার মানসিকতাই তাদের প্রত্যাশাকে বহুগুণ উসকে দিচ্ছে। তাই বর্তমান প্রশাসনকে এখনই তাদের কঠোর ও আপসহীন নীতি পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে, অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
জনমনে তীব্র অসন্তোষ, ভয় ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয় যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মীরা রাতারাতি গোপন আস্তানা এবং কার্যালয় উন্মুক্ত করে উসকানিমূলক জয় বাংলা স্লোগান প্রদান করছে। এই ধরনের প্রকাশ্য অন্যায় কর্মকাণ্ড সাধারণ দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক, তীব্র ক্ষোভ এবং চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। অতীতে ঘটে যাওয়া চরম জুলুম, অপশাসন, রাজনৈতিক নির্যাতন এবং ভয়াল দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি যাতে পুনরায় ঘটে না যায়, সে জন্য মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বিনীত ও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের সর্বস্তরের সচেতন ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের এই বিষয়ে চরম সজাগ, ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসিত করার যেকোনো সুযোগ প্রদান জাতির জন্য চূড়ান্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই অবিলম্বে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে দেশের শান্তি রক্ষায় সবচেয়ে কঠোর ও কার্যকর প্রশাসনিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াতে_ইসলামী #আওয়ামী_লীগ #আইনশৃঙ্খলা