ডিএসসিসি মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা ও নগর ভাবনার বিস্তারিত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম ভবিষ্যতে মেয়র পদে নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে তিনি আগামীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর আগে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

সম্প্রতি সরকার প্রধান প্রধান সিটি করপোরেশনগুলোতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে, যার অধীনে ৬ জন জ্যেষ্ঠ নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা শহরের নানা সমস্যা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন নবনিযুক্ত প্রশাসক। তিনি জানান, রাজধানী বর্তমানে যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জলাবদ্ধতা, ভয়াবহ বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল সমস্যা সমাধান করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

আইন প্রয়োগ ও নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা

নগর ব্যবস্থার নানাবিধ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ আবশ্যক। প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অবৈধ দখল নগরজীবনকে ক্রমান্বয়ে আরও বেশি বিষময় করে তুলছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নাগরিকরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব।” স্থানীয় প্রশাসন, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় বৃদ্ধি করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

কমিউনিটি উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা

রাজধানীকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া দরকার। সরকারের একক প্রচেষ্টার চেয়ে সামাজিক অংশীদারত্ব অনেক বেশি কার্যকর ফল দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নগরের পরিবেশগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রার্থীর পরিচিতি

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় আব্দুস সালাম অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র এবং মহানগর সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ প্রার্থী না হলেও, দলীয় শীর্ষ প্রার্থীর পক্ষে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন তার প্রাথমিক লক্ষ্য।

সিটি করপোরেশনের সার্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল উন্নয়নে আগামী দিনে বিভিন্ন মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

#রাজনীতি #ঢাকা #সিটি_করপোরেশন #নির্বাচন