অপপ্রচার চালিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিকাশ রোধ করা অসম্ভব: রিজভী

ঢাকা-র জাতীয় শিল্পকলা চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কর্তৃক নির্মিত নির্বাচনি প্রচারণা সঙ্গীত উদ্বোধনকালে বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত। প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘প্রপাগান্ডা বট’ ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন ও পরিকল্পিত কুৎসা রটানো হলেও অপপ্রচার দিয়ে এই শক্তির জাগরণ ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই শক্তি সোজা মেরুদণ্ড নিয়ে বীরদর্পণে দাঁড়িয়ে থাকবে।

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অসামান্য অবদান ও গণজাগরণ

সংগ্রাম ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের দুঃশাসন, চরম আতঙ্ক ও নিপীড়নের সময়ে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার এবং সুরকাররা নিজেদের সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে প্রতিনিয়ত প্রেরণা জুগিয়েছেন। নিপীড়নের মুখে সাধারণ মানুষকে পিছু হটতে না দেওয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ঐতিহাসিক অবদান। তিনি উল্লেখ করেন, “সংস্কৃতির এমন এক অবিশ্বাস্য শক্তি রয়েছে যা একটি পুরো জাতিকে সুসংগঠিত ও পরিচালিত করতে সক্ষম।” এই শক্তির কারণেই তীব্র দুঃস্বপ্নের ও কঠিন দিনগুলোতে মানুষ হাসতে হাসতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেনি।

তিনি সাম্প্রতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, ২৪ জুলাই এবং আগস্টের গণআন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ধানমন্ডি থেকে মোটরসাইকেলে করে প্রেসক্লাব যাওয়ার পথে তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন কীভাবে ধারালো অস্ত্র হাতে আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা মিছিল করছিল। পরবর্তী সময়ে রাজপথে অভিনয়শিল্পীদের সাহসী ও প্রতিবাদী অভিনয় দেখে তিনি গভীরভাবে অভিভূত হন। সেদিনই তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে দেশের গণমানুষের এই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণের সামনে কোনো স্বৈরাচারী শাসক বা শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়।

আসন্ন নির্বাচন ও ধানের শীষের চূড়ান্ত বিজয়

রিজভী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে তাদের প্রধান এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম হলো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। চারিদিকে চলা নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও মিথ্যাচারের কৌশলকে প্রতিহত করে নির্বাচনকে একটি মহাসংগ্রামের মতো বিজয়ে রূপান্তরিত করতে হবে। এই লড়াইয়ে শিল্পীদের তৈরি সুমধুর সুর ও শক্তিশালী বাণী সত্য, ন্যায় এবং বিএনপি-র দলীয় প্রতীক ধানের শীষ-এর চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংস্কৃতিক চর্চার এই গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। কালজয়ী গীতিকার ও সংগীতশিল্পীদের অবদানে আজ জনগণের হৃদয়ের গভীরে ধানের শীষের জনসমর্থন প্রবাহিত হচ্ছে। সংস্কৃতি মানুষের চিন্তাধারা, ভাষা ও রুচির ইতিবাচক রূপান্তর ঘটায়, যা যেকোনো সমাজকে একটি উন্নত ও শক্তিশালী আদর্শের দিকে ধাবিত করতে সক্ষম। উক্ত অনুষ্ঠানে জাসাস ও দলীয় অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংস্কৃতি