জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ শিবিরের সাবেক সভাপতির
ঢাকা-র গেন্ডারিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, যেসব রাজনৈতিক নেতার স্বদেশে ফিরে আসা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য ক্ষমতার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, তারাই আজ দেশের রাজপথের রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে গুপ্ত সংগঠন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও যিনি নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্তে দেশে ফিরতে সক্ষম হননি, তিনি সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। জাতীয় সংকট কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে যারা বিদেশগামী হন বা বিদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাদের মুখে জামায়াতে ইসলামীর মতো সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা মানায় না। কারণ দেশের সাধারণ জনগণ ভালোভাবেই অবগত যে সংকটকালে কারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেয় আর কারা সুবিধাজনক সময়ে বিদেশে পাড়ি জমায়।
জুলাই বিপ্লব, তরুণ প্রজন্মের অবদান এবং গণভোটের যৌক্তিকতা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কেবল স্বপ্ন দেখে না, বরং রাজপথের সংগ্রামের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জানে। বিশ্বের ইতিহাসের প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লব সর্বদা তরুণ ও ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে। গণআন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রতিটি দিন ও রাত ছিল প্রতিটি ছাত্র-জনতার জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও জীবন-মরণ পরীক্ষার মতো। দিবসের আলোয় রাজপথে নামলে শাহাদাতের তামান্না কাজ করতো এবং রাতের আঁধারে বাসাবাড়িতে প্রশাসনিক অভিযানের মুখে গুম হওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় ছিল। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করতো এবং গোপনে বন্দিশালায় নিয়ে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ ছত্রিশ দিনের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জেন-জিদের নেতৃত্বে বিজয়ের সূর্য উদিত হয়েছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল এখনও বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখতে চায় এবং জরুরি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের গণভোটের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে চলেছে। তরুণ সমাজ প্রতিটি নেতার বক্তব্য ও কাজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা
কর্মসূচীতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, বিগত দিনের অবৈধ নির্বাচন, নগর ভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনভোগান্তির মর্মান্তিক ইতিহাস সাধারণ মানুষ এখনও ভোলেনি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, একটি বিশেষ দলের পরিচয়ে দোকানপাট ও বসতবাড়ি দখলের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজপথে এবং ক্ষমতায় আসার আগেই যারা নারীদের ওপর হামলা জানায়, তাদের হাতে দেশের নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা কখনো নিরাপদ হতে পারে না।
তিনি স্থানীয় ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যে, কোনো আসনকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে জনগণকে প্রজা বানিয়ে রাখার অপচেষ্টাকে ভোটের মাধ্যমে বয়কট করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং পরিবর্তনের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় সমর্থন প্রদান করে জনগণের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। লন্ডনে দীর্ঘদিন অবস্থানরত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পেশাগত ও শিক্ষাগত তথ্যের বিভ্রান্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অতীতে যেমন বিতর্কিত রাজনীতি চালানো হয়েছিল, এখনও দেশের বাইরে বসে একই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তরুণ সমাজ জীবন দেবে কিন্তু কোনোভাবেই নির্বাচনী কারচুপি কিংবা ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জুলাইবিপ্লব