ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দলের আমির অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই ইশতেহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেন। এই নির্বাচনী দলিলে শিশু খাদ্য, স্বাস্থ্য খাত, নারী কল্যাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।
শিশু খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ উদ্যোগ
জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে যে, দেশে শিশু খাদ্যের ওপর কোনো প্রকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রাখা হবে না। এর পাশাপাশি দেশের দরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসূতি মা এবং শিশুদের সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকারি পর্যায় থেকে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশু ও পরিবারের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবার কাউন্সেলিং কেন্দ্র এবং কার্যকর মোটিভেশন সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি গ্রহণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করা হয়।
নারী সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা
নারীর সর্বাত্মক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই ইশতেহারে। ইশতেহার ঘোষণা করে বলা হয়, নারীর সম্পদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক ধর্মীয় প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার “ভিকটিম নারীদের সব ধরনের আইনি, মানসিক এবং আর্থিক সার্বিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে”। এর জন্য দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে একটি করে আধুনিক ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও অভাবগ্রস্ত বিধবা নারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্দেশ্যে এককালীন প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করা হবে এবং তার যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা হবে। সরকারি হাসপাতালের ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে ভিকটিম নারী এবং অভিযুক্ত নারী আসামিদের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করতে নারী চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণ ও সরকারি অনুদানের পরিসর বিস্তারের বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নারী উন্নয়ন বিষয়ক সংস্কার কমিশনের দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সার্বিক মান উন্নয়নে প্রকৃত হিজড়াদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসন, বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে জামায়াত অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #ইশতেহার