শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও ছাত্রসংসদ নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার: জামায়াতের নতুন নির্বাচনী ইশতেহার
দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে দক্ষ ও সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে কার্যকর छात्र সংসদ। একটি সুসংগঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বার্থে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চর্চা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত কয়েক দশক ধরে এসব ছাত্রসংসদ সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রধান পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় ছাত্রসংসদ সক্রিয় করার কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সিংহভাগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই পটভূমিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজনৈতিক দলটি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এ বিশেষ ঘোষণা প্রদান করেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা-র বনানী এলাকায় অবস্থিত হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত থেকে জাতির সামনে এই বিস্তৃত ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
উচ্চশিক্ষা সংস্কার, স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ
শিক্ষাক্ষেত্রের আধুনিকায়নে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আমূল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন করার বিশদ পরিকল্পনা ইশতেহারে গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ, উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শিক্ষা বিনিময় বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এর পাশাপাশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রফেসর এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বিস্তৃত করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যা দেশের শিক্ষার গুণগত মান বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার, ডিজিটাল সেবা ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস
উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান ও সহজ পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে জামায়াত বিশেষ কিছু আধুনিক সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধার কথা ভেবে উন্নত ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত সার্বিক দিক বিবেচনা করে অসুস্থতাজনিত কারণ বা স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য স্থগিত বা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনগত অধিকার ও অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনিক সকল সেবা ডিজিটালাইজড করা হবে।
ঘোষিত এই ইশতেহারের ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সকল ধাপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা হবে। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রসমূহকে যাবতীয় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার পরিবেশে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শিক্ষা #নির্বাচনী_ইশতেহার