ছয় মাসে বিএনপি সরকারের বড় দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নয়াপল্টনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অত্যন্ত জোর দিয়ে দাবি করেছেন যে, তাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে নির্বাচনি অঙ্গীকার ও উন্নয়ন কর্মসূচির সিংহভাগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বিভিন্ন পরিসংখ্যানে আলোকপাত করে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জনকল্যাণমূলক খাতের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ এবং অন্য ক্ষেত্রে অন্তত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে। রিজভী স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারের ছয় মাসের সাফল্যের অর্জিত বিবরণ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে।” অর্জিত এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী ছয় মাসে সকল কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে বলে জানানো হয়।

কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ ও বিশেষ বুকলেট প্রকাশ

বিএনপি নেতা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কাজে প্রারম্ভিক পর্বে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকারের সকল জনমুখী কর্মসূচি আরও জোরদার ও সুসংগঠিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশেষভাবে জানান যে, সরকারের অর্জনের সচিত্র বিবরণ সংবলিত এক বিশেষ বুকলেট সাংবাদিকদের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। সেই স্মারকে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং দেশব্যাপী সুদূরপ্রসারী খাল খনন কর্মসূচি সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর তথ্য ও উপাত্ত বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দলের মহাসচিবের পদত্যাগ ও নৈতিকতার অনন্য নজির

সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিবের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী পরিষ্কার করে বলেন, মহাসচিব দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনীত হওয়ার পর যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তা সুউচ্চ নীতিগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদে চূড়ান্ত শপথ নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দলীয় দায়িত্ব কিংবা অন্য পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই। রিজভী বলেন, “আইনগত বাধা না থাকলেও উচ্চ নৈতিকতার কারণে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এটি গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য ও দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি

সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভেই রিজভী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অতীত সংগ্রাম ও অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের অখণ্ড সার্বভৌমত্ব এবং পূর্ণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য খালেদা জিয়া আজীবন আপসহীন নীতি অবলম্বন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম, যার কারণে তাঁকে জীবনের দীর্ঘ সময় নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর জন্মদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সারাদেশে বিশেষ দোয়া মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে রাজধানী ঢাকা শহরের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশান কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

সাংগঠনিক রদবদল ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নতুন কমিটি গঠন কিংবা যেকোনো রদবদল সংক্রান্ত গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি জানান, হাইকমান্ড হতে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও সার্বিক বিষয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বসহ প্রচারের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি এবং এর সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ