জ্বালানি নিরাপত্তা ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের নির্বাচনী অঙ্গীকার: জামায়াতের ইশতেহার

ঢাকা-র বনানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘ভিশন: পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির নিশ্চয়তা’ শীর্ষক অংশটি উপস্থাপন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহারে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

পরমাণু শক্তি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন

ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে পরমাণু শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বৃহৎ সোলার পার্ক স্থাপন, বাসাবাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বা রুফটপ সিস্টেম বসাতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা ও জাতীয় জলবায়ু সুরক্ষার অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সৌরশক্তিতে এই রূপান্তর ঘটানো হবে।

গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস ও সিস্টেম লস কমানো

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট দূর করতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য। ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের অনশোর এবং অফশোর উভয় অঞ্চলেই অত্যন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধান অভিযান চালানো হবে। এই উদ্দেশ্যে বাপেক্স-এর টেকনিক্যাল ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে পিডিবির কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো এবং সিস্টেমে বিদ্যমান লস বা অপচয় হ্রাস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ জনগণের জন্য বিদ্যুতের মূল্যের হার সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা যায়।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও দুর্নীতি দূরীকরণের নীতি

দেশীয় কয়লা সম্পদের ব্যবহার নিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, জ্বালানি বৈচিত্র্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কয়লার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রেখেই এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এই কৌশল অনুসরণে বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ক্ষতিকর নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, আধুনিক বয়লার এবং উন্নত অপারেশনাল মানদণ্ড যুক্ত করে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এলপিজি ও এলএনজি ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।

জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং অপচয় বন্ধে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে স্বাধীন ও সর্বাত্মক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন্দ্রিক সব ধরনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব দেশীয় ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষ ও আধুনিক তেল শোধনাগার গড়ে তুলে জ্বালানির অভ্যন্তরীণ দাম কমানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জ্বালানি #বিদ্যুৎ #ইশতেহার