নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করল জামায়াতে ইসলামী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তারা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি প্রতিটি আয় ও ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ নামের একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করবে। এর পাশাপাশি বিগত সময়গুলোতে দুর্নীতিবাজদের দ্বারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত যাবতীয় সম্পদ আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নির্বাচনি ইশতেহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার রোধে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সিভিল সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি করা হবে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব প্রকাশের সিদ্ধান্ত
আমিরে জামায়াত তার বক্তব্যে বলেন, “সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অর্জিত বার্ষিক সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণী সর্বসাধারণের দেখার জন্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, দুর্নীতির সর্বগ্রাসী বিস্তার বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা চালিয়ে দুর্নীতির মূল পথগুলো চিরতরে বন্ধ করা হবে। বড় বড় দুর্নীতির উৎসগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনিকভাবে তা প্রতিরোধের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শাসনব্যবস্থায় পিআর পদ্ধতি ও তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ
ইশতেহারে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে দেশের তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী ও সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উপযুক্ত সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এছাড়াও পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো অবাধ ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতি (PR System) চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের সঠিক প্রতিফলন ঘটে।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
দলের শীর্ষ নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের যুগান্তকারী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক খাত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত ইশতেহার উন্মোচন অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী-র সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #ইশতেহার