সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশ গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হবে: বিএনপির উদ্বেগ

ঢাকা-র লেকশোর হোটেল-এ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিএনপি-র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী সাধারণ নির্বাচন যদি সঠিক, অবাধ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ না হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গোটা জাতি এক অসীম ও গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হবে। দেশের গণতন্ত্র পুনরায় সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমানে যে ঐতিহাসিক ও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই অনৈতিক বা চক্রান্তমূলক উপায়ে নষ্ট না হয়ে যায়—সে বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গণতন্ত্র রক্ষা, ভোটাধিকার এবং গণমাধ্যমের অপরিসীম দায়িত্ব

বিএনপি-র এই প্রবীণ নীতি নির্ধারক জোরালোভাবে বলেন, যে কোনো একটি সভ্য ও স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভই হচ্ছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। যেসব দেশে জনগণের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত থাকে, সেখানে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব বজায় থাকে না। জনগণের অধিকার রক্ষা ও মতপ্রকাশ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনি দেশের সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং বস্তুনিষ্ঠ সত্য উন্মোचन করাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধান কাজ।

নির্বাচনী অপরাধ তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, অন্যায়ভাবে ভুয়া বা জাল ভোট প্রদান করা যেমন এক ধরনের গুরুতর অপরাধ, ঠিক তেমনই একজন নাগরিককে তার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না দেওয়া বা কেন্দ্রে যেতে বাধা সৃষ্টি করাও সমপর্যায়ের নিকৃষ্ট অপরাধ। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন দেশের কোথাও কোনো ধরনের অনৈতিক, জালিয়াতিপূর্ণ বা বেআইনি কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তীব্র ও সতর্ক প্রসূত সজাগ দৃষ্টি রাখার বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়।

পরিবর্তনের মহা সুযোগ, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা

সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা জানান, বর্তমান যুগে দেশের সিংহভাগ গণমাধ্যমের মালিকানা বৃহৎ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের হাতে পুঞ্জীভূত হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও ধনকুবেররা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে সংবাদমাধ্যমের ওপর এক বিশেষ রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব ও চাপ অব্যাহত থাকে। তবে এই ধরনের চরম প্রতিকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাংবাদিকেদের সত্য প্রকাশে সম্পূর্ণ অটল, নিরপেক্ষ ও পেশাদার অবস্থান ধরে রাখার অনুরোধ করা হয়।

তিনি অত্যন্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর অতিক্রম হলেও দেশের সাধারণ মানুষ এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের সুফল লাভ করতে সক্ষম হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, খুন এবং সীমাহীন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে জনগণকে কঠিন দিন পার করতে হয়েছে। এসব অনাচার ও চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতা নিজের জীবন উৎসর্গ করে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। সুতরাং, এই নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভোটাধিকারের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #গণতন্ত্র #সংবাদ